অণুজীব দিয়ে ফারমেন্টেশন বা গাঁজন প্রক্রিয়ায় তৈরি প্রোটিন ও খাদ্য উপাদানের পরিবেশগত ক্ষতি মাংস, দুধ ও সামুদ্রিক খাবারের চেয়ে অনেক কম। বিকল্প প্রোটিন নিয়ে কাজ করা গবেষণা প্রতিষ্ঠান গুড ফুড ইনস্টিটিউট (জিএফআই) ৩০টির বেশি জীবনচক্র মূল্যায়ন পর্যালোচনা করে এ কথা বলেছে। খবরটি দিয়েছেন গ্রিন কুইনের আনয় মৃদুল।
বায়োমাস ফারমেন্টেশনে ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া বা ইস্ট থেকে প্রোটিন তৈরি হয়, যেমন মাইকোপ্রোটিন। পর্যালোচনা বলছে, এতে গরুর মাংসের তুলনায় ৯৮ শতাংশ, শূকরের মাংসের তুলনায় ৮৬ শতাংশ এবং মুরগির মাংসের তুলনায় ৭৫ শতাংশ কম নির্গমন হয়। গরু ও শূকরের মাংসের চেয়ে জমি লাগে যথাক্রমে ৯৮ ও ৯৪ শতাংশ কম, পানি ৯৭ ও ৭০ শতাংশ কম।
প্রিসিশন ফারমেন্টেশনে অণুজীবকে কারখানার মতো ব্যবহার করে দুধ বা ডিমের সমতুল্য প্রোটিন তৈরি হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের দুগ্ধ প্রোটিনের চেয়ে ৬২-৯৭ শতাংশ কম গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়, জমি লাগে ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত কম এবং পানি ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত কম। এভাবে তৈরি ডিমের সাদা অংশের প্রোটিনে মুরগির ডিমের চেয়ে নির্গমন ৩১-৭৪ শতাংশ কম।
অণুশৈবাল ও ইস্ট দিয়ে তৈরি ওমেগা-৩ তেলে ফসলভিত্তিক কাঁচামাল ব্যবহারে সমুদ্র থেকে ধরা মাছের তেলের চেয়ে নির্গমন ২৯-৭৩ শতাংশ কম। খাদ্য বর্জ্য কাঁচামাল হলে সুফল আরও বেশি, পানিদূষণও কম হয়।
জিএফআই বলছে, সুফল কতটা মিলবে তা তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে: নবায়নযোগ্য জ্বালানি, যাকে তারা সবচেয়ে কার্যকর উন্নতি বলছে; কৃষির উপজাত ও বর্জ্য কার্বনের মতো নতুন কাঁচামাল; আর বিদ্যুৎ, পানি ও কাঁচামালের প্রাপ্যতা দেখে কারখানার স্থান বাছাই। সরকারের কাছে তারা ঋণ, অনুদান, কর ছাড়, যৌথ পাইলট কারখানা এবং কাঁচামাল হিসেবে স্থানীয় ভুট্টা, আখ ও সুগার বিটে সহায়তা চেয়েছে।
কৃষকের জন্য সরাসরি যোগসূত্রও দেখিয়েছে জিএফআই: ফারমেন্টেশন কারখানা স্থানীয় ফসলের উপজাতের সঙ্গে যুক্ত হলে ফসলের অবশিষ্টাংশ কৃষকের নতুন আয়ের উৎস হতে পারে।
ছবি: Jan Ainali / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: Green Queen





মন্তব্য
(০)