দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ডিজিটাল কৃষির সমস্যা প্রযুক্তির ঘাটতি নয়, প্রযুক্তি কৃষকের কাছে পৌঁছানোর দুর্বল ব্যবস্থা। এমনটাই বলছে গ্রো এশিয়া (Grow Asia) ও আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল আইফাডের যৌথ প্রকল্প সিডস (SEEDS)-এর নতুন প্রতিবেদন। প্রকল্পে অর্থ দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার কৃষি, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
দ্য সাসটেইনেবল স্মলহোল্ডারের এরিকা বালজারেলি (Erika Balzarelli)-র সঙ্গে লেখা প্রতিবেদনটি কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামে চার বছরের কাজের ভিত্তিতে তৈরি। এতে খোঁজা হয়েছে, কৃষকেরা কেন অসমভাবে ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করছেন।
বালজারেলি এগ্রিনেভিগেটরকে বলেন, শুরুটা হতে হবে সরকারি ডিজিটাল অবকাঠামো দিয়ে। "ডিজিটাল অবকাঠামো না থাকলে উদ্ভাবন কৃষকের কাছে পৌঁছানোও যায় না, বড় পরিসরে ছড়ানোও যায় না।" ভারতে সরকার এগিয়ে এসেছিল, কেনিয়ায় আগে এসেছিল বেসরকারি খাত। তবে আসিয়ান সচিবালয়, গ্রো এশিয়া, আইফাড বা কৃষি মন্ত্রণালয়ের মতো একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানকে সমন্বয়ের দায়িত্ব নিতে হবে।
তিনি বলেন, অনেক কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবসার মডেল তরুণ, প্রযুক্তিতে দক্ষ বা সচ্ছল কৃষকদের কথা ভেবে তৈরি, ফলে বেশির ভাগ খুদে কৃষক বাদ পড়ে যান। তাঁর ভাষায়, "কৃষককেন্দ্রিক না হলে বাজার নেই, বিনিয়োগও নেই।"
গ্রো এশিয়ার আঞ্চলিক কর্মসূচি প্রধান ফ্রেডেরিক গ্লাজেনার (Frederique Glazener) জানান, সিডসের কর্মশালায় নারী, তরুণ ও বয়স্ক কৃষকদের প্রযুক্তি নকশায় যুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, অনেক পাইলট প্রকল্প দেখে প্রযুক্তি কাজ করে কি না, কিন্তু প্রকল্প শেষে কৃষকেরা তা ব্যবহার চালিয়ে যান কি না, তা দেখে না।
প্রতিবেদনে সবার জন্য এক ছাঁচের ডিজিটাল সেবা বাদ দিয়ে তরুণ, বয়স্ক ও নারী কৃষকদের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণ এবং সরকারি কৃষি সম্প্রসারণ সেবার মাধ্যমে সহায়তার সুপারিশ করা হয়েছে। বালজারেলির মতে, এনজিও বা স্টার্টআপের এককালীন পাইলটের সেই নাগাল নেই, যা সরকারি সম্প্রসারণ সেবার আছে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন এগ্রিনেভিগেটরের অ্যামান্ডা লিম।
ছবি: International Rice Research Institute / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: AgNavigator





মন্তব্য
(০)