সুইডেনের কেটিএইচ রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (KTH Royal Institute of Technology) বিজ্ঞানীরা এমন কিছু জিনগত পরিবর্তন শনাক্ত করেছেন, যা সালোকসংশ্লেষণকে আরও দক্ষ করতে পারে। ভবিষ্যতে এটি ফসলের উৎপাদনশীলতা ও জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে কাজে লাগতে পারে বলে জানিয়েছে সিড ওয়ার্ল্ড ইউরোপ।
গবেষণার কেন্দ্রে রুবিস্কো (Rubisco) এনজাইম। এর সাহায্যে গাছ বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড ধরে বৃদ্ধির উপাদান তৈরি করে। এনজাইমটি অপরিহার্য হলেও তেমন দক্ষ নয়: মাঝে মাঝে এটি কার্বন ডাই-অক্সাইডের বদলে অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে, তখন গাছকে বাড়তি শক্তি খরচ করতে হয়, যা বৃদ্ধিতে যেতে পারত।
গবেষকেরা ব্যাকটেরিয়ার রুবিস্কোর প্রায় ১৫ হাজার পরিবর্তিত সংস্করণ তৈরি করে পরীক্ষা করেছেন। ব্যাকটেরিয়ার এনজাইমের গঠন সরল, তাই উদ্ভিদের তুলনায় অনেক বেশি সংস্করণ সহজে যাচাই করা যায়। দ্রুত বহু নমুনা যাচাইয়ের একটি প্ল্যাটফর্মে তাঁরা দেখেছেন, একক ও একাধিক পরিবর্তন এনজাইমের কাজ এবং সালোকসংশ্লেষী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে কী প্রভাব ফেলে।
কয়েকটি সংস্করণ অক্সিজেনের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত বিক্রিয়া কমিয়েছে, অথচ কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রক্রিয়াকরণের হার কাজের মতো রেখেছে। তবে শীর্ষ দুটি সংস্করণেই সামগ্রিক দক্ষতায় কিছু ছাড় দিতে হয়েছে।
গবেষণায় সমস্যার জটিলতাও ধরা পড়েছে। আলাদাভাবে ভালো কাজ করা পরিবর্তনগুলো একসঙ্গে করলে প্রায়ই সুফল হারিয়েছে, আর কম্পিউটার মডেল এসব মিথস্ক্রিয়া আগে থেকে ঠিকমতো বলতে পারেনি।
গবেষকেরা জোর দিয়ে বলেছেন, ফসলে বেশি ফলন এখনো দেখানো যায়নি। তাঁরা এখন আরও পরিবর্তন পরীক্ষা করছেন এবং সম্ভাবনাময় সংস্করণগুলো উদ্ভিদকোষে পরীক্ষা করছেন। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে সায়েন্স অ্যাডভান্সেস সাময়িকীতে।
ছবি: Littlebird9 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Seed World Europe





মন্তব্য
(০)