ইংল্যান্ডের এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি চালু করেছে ফ্লাড অ্যাকশন অনলাইন নামে একটি ওয়েবসাইট, যেখানে মানুষ এক জায়গাতেই দেখতে পারবেন তাঁর বাড়ি বন্যার ঝুঁকিতে আছে কি না, বন্যার সতর্কবার্তা পেতে নিবন্ধন করতে পারবেন, দুর্যোগের সময় মেট অফিসের আবহাওয়া সতর্কতা দেখতে পারবেন এবং বাড়িকে বন্যাসহ করার ব্যবহারিক উপায় জানতে পারবেন। সংস্থাটির বার্ষিক বন্যা সচেতনতা সপ্তাহের শুরুতে এটি চালু হলো।
সরকার নতুন লক্ষ্যও ঠিক করেছে: ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৯ সালের মার্চ পর্যন্ত বাঁধ ও প্রতিরক্ষা মেরামত, প্রতিস্থাপন ও নির্মাণে ৪২০ কোটি পাউন্ডের কর্মসূচিতে দুই লাখ বাড়ির সুরক্ষা জোরদার হবে, এতে ২,৭৯০ কোটি পাউন্ডের ক্ষতি এড়ানো যাবে বলে সরকারের হিসাব। প্রথম দুই বছরে সরকার ২৬৫ কোটি পাউন্ড খরচ করে প্রায় ৬২ হাজার বাড়ির সুরক্ষা বাড়িয়েছে, যেখানে লক্ষ্য ছিল ৫২ হাজার; প্রয়োজনীয় মানে থাকা প্রতিরক্ষা অবকাঠামোর হার ২০২৬ সালের মার্চ শেষে ৯৩ শতাংশে উঠেছে, ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে তা ৯৩.৫ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য।
এ সপ্তাহে প্রথমবারের মতো বসছে নতুন বন্যা ও খরা সহনশীলতা টাস্কফোর্স। সরকার বলছে, এখন খরা ও বন্যা একই সময়ে হতে পারে, আর আবহাওয়া দ্রুত এক চরম থেকে আরেক চরমে যেতে পারে।
বন্যাবিষয়ক মন্ত্রী এমা হার্ডি (Emma Hardy) বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়া দ্রুত বদলাতে পারে, তবে বন্যা মোকাবিলায় দেশ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রস্তুত। তিনি সবাইকে নিজের বন্যাঝুঁকি যাচাই, একটি বন্যা পরিকল্পনা তৈরি এবং সতর্কবার্তা মেনে চলার আহ্বান জানান।
এনভায়রনমেন্ট এজেন্সির বন্যাবিষয়ক নির্বাহী পরিচালক ক্যারোলাইন ডগলাস (Caroline Douglass) জানান, এই শীতে তাঁদের দল দিনরাত সাড়া দিতে প্রস্তুত। সংস্থাটির কাছে ২৬০টি ভ্রাম্যমাণ পাম্প আছে, যার ১৭টি অতি উচ্চক্ষমতার, আর আছে ২৫ কিলোমিটার অস্থায়ী প্রতিবন্ধক; যেকোনো সময় ৬০০ জন কর্মী ডাকের অপেক্ষায় থাকেন, সাধারণ মানুষের জন্য বন্যার সতর্কবার্তা বিনা মূল্যে।
বন্যা শুধু ঘরবাড়ি নয়, ফসলি জমিও ডোবায়। খামারের ক্ষেত্রেও একই পরামর্শ খাটে: মাঠ, পশু ও গুদামের ঝুঁকি জানা, আগে থেকে পরিকল্পনা রাখা এবং সতর্কবার্তা পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া।
ছবি: Phil Dolby / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Global Agriculture




মন্তব্য
(০)