২০২৬ সালে ইংল্যান্ডে গম, বার্লি, ওট ও তেলবীজ সরিষার (রেপসিড) মোট উৎপাদন নেমেছে ১ কোটি ৬০ লাখ ৩০ হাজার টনে। ১৯৮৪ সালে রেকর্ড রাখা শুরুর পর এটিই সবচেয়ে কম, আগের সর্বনিম্ন ছিল ২০২০ সালের ১ কোটি ৬১ লাখ ৬০ হাজার টন। যুক্তরাজ্যের পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক দপ্তরের (ডেফরা) প্রাথমিক হিসাব বিশ্লেষণ করে এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এ তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাউন টু আর্থের কিরণ পাণ্ডে।
শুষ্ক বসন্তের পর মে ও জুনে একের পর এক তাপপ্রবাহ, তারপর ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অস্বাভাবিক শুকনো জুলাই। ফসলের গুরুত্বপূর্ণ বৃদ্ধির সময় পুরো ওয়েলস ও ইংল্যান্ডের প্রায় অর্ধেক অঞ্চল খরায় পড়ে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি বার্লি ও ওটের। বার্লি উৎপাদন ১১ শতাংশ কমে ৩৭ লাখ টনে, ওট ২৯ শতাংশ কমে ৫ লাখ ২৭ হাজার টনে নেমেছে, যা ১৪ বছরে সর্বনিম্ন। গমের উৎপাদন সামান্য বেড়ে ১ কোটি ৮ লাখ টন হলেও ফলন দীর্ঘমেয়াদি গড়ের নিচে।
কৃষি ও উদ্যান উন্নয়ন বোর্ডের (এএইচডিবি) তথ্যে শীতকালীন গমের ফলন হেক্টরপ্রতি ৬.৯ টন, পাঁচ বছরের গড়ের চেয়ে ১১ শতাংশ কম; বসন্তকালীন বার্লি ৪.৮ টন, ১৭ শতাংশ কম; ওট ৪.৬ টন, ১৪ শতাংশ কম।
ব্যতিক্রম সরিষা: বেশি জমিতে চাষ আর ভালো ফলনে উৎপাদন ৪৩ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১০ লাখ টন হয়েছে, তবে তা দানাশস্যের ঘাটতি পূরণে যথেষ্ট নয়। দক্ষিণের চেয়ে উত্তরের অঞ্চলগুলো সাধারণভাবে ভালো করেছে; ইয়র্কশায়ার অ্যান্ড দ্য হাম্বারে গমের উৎপাদন বেড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী কিছু কৃষক আগেভাগে ফসল কেটেছেন, অনেকে অনেক কম ফলন পেয়েছেন; উচ্চ উৎপাদন খরচের সঙ্গে এতে আর্থিক চাপ বেড়েছে, আর কম ফলন ও মান বিক্রয়যোগ্য সরবরাহ সীমিত করে মজুত ও বিক্রি জটিল করতে পারে। চরম আবহাওয়া সামলাতে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা, পানি সংরক্ষণ ও সেচে বিনিয়োগ, খরা সহনশীল জাত এবং বাড়তি গবেষণার কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।
ছবি: Hugh Venables / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)