বিশ্ব ডিম দিবসের ৩০ বছর পূর্তিতে (৯ অক্টোবর) প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক কলামে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক এ কে এম হুমায়ুন কবির লিখেছেন, ডিম এখন কেবল পুষ্টির উৎস নয়, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতির স্তম্ভ। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল "প্রোটিন, যা শক্তি দেয় ও সুরক্ষা করে"। মতামতগুলো লেখকের নিজের।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি লিখেছেন, ২০১০-১১ অর্থবছরে দেশে ৬০৮ কোটি ডিম উৎপাদিত হতো; ২০২৪-২৫ সালে তা প্রায় চার গুণ বেড়ে ২,৪৪১ কোটিতে পৌঁছেছে, যেখানে নির্ধারিত চাহিদা ১,৮৫০ কোটি। মাথাপিছু বার্ষিক প্রাপ্যতা এখন প্রায় ১৩৭টি। কিন্তু ইউনিসেফ ও বিবিএসের ২০২৫ সালের জাতীয় জরিপ অনুযায়ী ৬ থেকে ২৩ মাস বয়সী শিশুদের প্রায় ৬৫ শতাংশ এখনো চরম খাদ্যদারিদ্র্যে আছে। ছয় মাস বয়সের পর শিশুর সম্পূরক খাবারে ডিম যোগ করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
পুষ্টির দিক নিয়ে তিনি কয়েকটি গবেষণার উল্লেখ করেছেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে জার্নাল অব হিউম্যান নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটেটিকসে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ২১টি সমীক্ষার ৯৯,৪৫৩ জনের তথ্য বিশ্লেষণে দৈনিক প্রায় ৫০ থেকে ৬০ গ্রাম ডিম খাওয়ার সঙ্গে বয়সজনিত জ্ঞানীয় অবনতির তুলনামূলক কম ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। লেখক নিজেই সতর্ক করেছেন, এটি নিশ্চয়তা নয়, আর ডিমকে অলৌকিক সমাধান না ভেবে সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে খেতে হবে।
কোলেস্টেরল নিয়ে তিনি ২০২৫ সালে আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনে প্রকাশিত একটি গবেষণার উল্লেখ করেছেন, যেখানে রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বাড়ার জন্য খাদ্যের কোলেস্টেরলের চেয়ে সম্পৃক্ত চর্বিকে মূল দায়ী পাওয়া গেছে। তাঁর ব্যাখ্যায়, প্রায় ৫০ গ্রামের একটি ডিমে ছয় গ্রামের বেশি প্রোটিন ও ৭০ থেকে ৭৫ কিলোক্যালরি থাকে; লাল ও সাদা ডিমের পুষ্টিমানে পার্থক্য নেই, খোসার রং মুরগির জাতের ওপর নির্ভর করে।
খামারির দিক থেকে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের একটি গবেষণার কথা লিখেছেন, যাতে দেখা গেছে পোলট্রি বাজারের আর্থিক ও বাজারঝুঁকি মূলত প্রান্তিক খামারিরাই বহন করেন। খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, মধ্যস্বত্বভোগী ও পরিবহনব্যবস্থার দুর্বলতায় কখনো খামারি লোকসানে পড়েন, কখনো ভোক্তা চড়া দামে ডিম কেনেন। তাই পোলট্রি ফিডের দাম স্থিতিশীল রাখা ও সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বচ্ছতা আনার কথা বলেছেন তিনি।
সামনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার কথা বলেছেন: অতিরিক্ত তাপে ডিম উৎপাদন কমে, খোসা পাতলা হয়। এর জবাবে তাপসহনশীল খামার ব্যবস্থাপনা, জৈবনিরাপত্তা এবং খামারের বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস ও সৌরবিদ্যুতে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ তাঁর। পাশাপাশি তরল ডিম, পাস্তুরিত উপাদান ও ডিমের গুঁড়ার মতো প্রক্রিয়াজাত পণ্যের শিল্প গড়ে উঠলে বেকারি, হোটেল ও পোশাক খাতের প্রাতিষ্ঠানিক বাজার এবং রপ্তানির সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
ছবি: Evan-Amos / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন); লাল ও সাদা ডিমের প্রতীকী ছবি
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)