ওডিশার চিলিকা হ্রদে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহগুলোতেই পরিযায়ী পাখি আসতে শুরু করেছে। ডাউন টু আর্থে এক কলামে রঞ্জন পান্ডা (Ranjan Panda) লিখেছেন, এটি শুধু শীতের সুখবর নয়, নজর রাখার মতো একটি পরিবেশগত সংকেত। মতামত লেখকের নিজস্ব।
লেখক জানান, ওডিশা বন বিভাগ টহল বাড়িয়েছে, ২২টি অস্থায়ী পাখি সুরক্ষা শিবির চলছে। হ্রদ ও নলবন এলাকায় এরই মধ্যে দেখা যাচ্ছে নর্দার্ন পিনটেইল, ইউরেশীয় উইজন, গ্যাডওয়াল, শোভেলার ও গ্লসি আইবিস। তবে তিনি সতর্ক করেন, অক্টোবরে পাখি আসা নতুন কিছু নয়; বদলাচ্ছে পরিযানের সময়সূচির অনিশ্চয়তা।
তাঁর মতে, পাখির যাত্রাপথের দুই প্রান্তই উষ্ণ হচ্ছে। ওডিশার রেকর্ড নিয়ে গবেষণায় ১৯৮১-২০১০ সময়ে প্রায় ০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতা বৃদ্ধি দেখা গেছে, ২০০১-২০১০ সময়ে বৃদ্ধি ছিল তীব্র। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে ১৯০১-২০২০ সময়ে দেশের দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণতা বৃদ্ধি শতাব্দীতে প্রায় ০.৬২ ডিগ্রি। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে চিলিকা ও ভিতরকণিকা থেকে পাখি স্বাভাবিকের আগে ফিরে যাওয়ার খবর এসেছিল, কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল বাড়তি তাপমাত্রা ও কমে যাওয়া পানি। নেচার ক্লাইমেট চেঞ্জ সাময়িকীর গবেষণায় দেখা গেছে, আর্কটিকে প্রজনন করা কিছু হাঁসজাতীয় পাখি বসন্তের পরিযান এগিয়ে আনছে।
লেখক দাবি করেননি যে এ বছরের আগাম আগমনের একমাত্র কারণ জলবায়ু পরিবর্তন; প্রজননস্থল, যাত্রাবিরতির জায়গা, খাবার, বাতাস ও পথের জলাভূমি সবই প্রভাব ফেলে। কিন্তু শীতের অতিথি পাখির জন্য চিলিকাকে সচল থাকতে হয়: ঠিকঠাক পানি, লবণাক্ততা, জলজ উদ্ভিদ, মাছ ও কাদাচর। হ্রদের পানিপ্রবাহের পরিবর্তন এরই মধ্যে মাছ ও পানির মানে প্রভাব ফেলছে।
তাঁর প্রস্তাব, পাখির পাশাপাশি স্থানীয় জ্ঞানকেও গণনায় আনা। আরাখাকুদা, সাতপাড়া ও মহিষার জেলেরা লবণাক্ততা, বাতাস, জোয়ার-ভাটা ও মাছের প্রজননের যে বদল টের পান, আনুষ্ঠানিক পর্যবেক্ষণে তা ধরা পড়ে না। জেলে তরুণ ও নারীদের প্যারা-ইকোলজিস্ট হিসেবে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের রেকর্ড স্যাটেলাইট, আবহাওয়া দপ্তর ও জরিপের তথ্যের পাশে রাখলে হ্রদের জন্য একটি আগাম সতর্কব্যবস্থা গড়ে উঠবে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি অববাহিকা থেকে মিঠাপানির সুস্থ প্রবাহ, সাগরমুখ ও খাল প্রাকৃতিকভাবে সচল রাখা, লবণাক্ততা ও পানির মান পর্যবেক্ষণ, ক্ষতিকর চিংড়ি ও মাছ চাষ নিয়ন্ত্রণ এবং চিলিকা ব্যবস্থাপনায় জেলে সম্প্রদায়ের মতামতের সুযোগ চেয়েছেন।
ছবি: Aditya Bhattacharjee / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)