২০২৩ ও ২০২৪ সালের এল নিনোর সময় বিশ্বের ৭৫ শতাংশের বেশি ক্রান্তীয় বন স্বাভাবিকের চেয়ে তীব্র খরা ও তাপপ্রবাহের মধ্য দিয়ে গেছে। আর্থস ফিউচার সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণার খবর দিয়েছে ডাউন টু আর্থ। তিন-চতুর্থাংশের বেশি বনে গড়ে ছয় মাস অস্বাভাবিক খরা ও গরম ছিল।
গবেষকেরা ২০০০ থেকে ২০২৪ সালের একাধিক জলবায়ু তথ্যভান্ডার ব্যবহার করেছেন, যা ১ কোটি ৫৯ লাখ বর্গকিলোমিটার বনভূমি জুড়ে: আমেরিকায় ৮৪ লাখ, আফ্রিকায় ৩৬ লাখ, এশিয়ায় ৩৯ লাখ বর্গকিলোমিটার। ২১০০ সাল পর্যন্ত প্রক্ষেপণও করা হয়েছে। একসঙ্গে গরম ও শুষ্ক অবস্থা আমেরিকার গড়ে ৮৮ শতাংশ ও আফ্রিকার ৮৯ শতাংশ বনে আঘাত করেছে, এশিয়ায় ৪৩ শতাংশে; ২০১৫-১৬ সালের এল নিনোর তুলনায় তা চার গুণ পর্যন্ত বেশি সময় স্থায়ী হয়েছে। তিন মহাদেশেই ২৪ মাসের মধ্যে ১৭ থেকে ১৯ মাস তাপপ্রবাহ চলেছে।
স্বাভাবিকের চেয়ে শুষ্ক অবস্থা ছিল ৮০ শতাংশ ক্রান্তীয় বনে: আমেরিকায় ৯১, আফ্রিকায় ৯২ ও এশিয়ায় ৪৮ শতাংশ। কেবল এশিয়ায় খরাকবলিত এলাকা ২০১৫-১৬ সালের চেয়ে ২২ শতাংশ ছোট ছিল। অস্বাভাবিক শুষ্ক ও গরম মাসগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ পড়েছে বর্ষাকালে, যা গবেষকদের মতে মাটির নিচের পানির পুনর্ভরণ ব্যাহত করে; অথচ পরের শুষ্ক মাসগুলোতে গাছ বাঁচে সেই পানিতেই।
২০২৩-২৪ সালে পোড়া এলাকা ৯ শতাংশ এবং বন অবক্ষয়ের খবর ১৯ শতাংশ বেড়েছে; গবেষণায় একে খরা, আগুন ও অবক্ষয়ের দ্রুততর চক্র হিসেবে দেখা হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম আফ্রিকায় খরা সহ্যের ক্ষমতা কমেছে, ফলে মৃদু খরাতেও কার্বন শোষণকারী বন অবক্ষয়িত হতে পারে।
সম্ভাব্য নিঃসরণের পথে ২০২৩-২৪ সালের তাপ ২০ বছরের কম সময়ে ক্রান্তীয় বনের স্বাভাবিক অবস্থা হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকেরা। উচ্চ নিঃসরণে ২০৪৩ সালের মধ্যেই রেকর্ড পর্যায়ের বার্ষিক তাপমাত্রা প্রতি বছরের ঘটনা হবে, আর ২১০০ সালের মধ্যে আমাজন, মধ্য আমেরিকা ও দক্ষিণ আফ্রিকায় খরার আশঙ্কা নয় গুণ পর্যন্ত বাড়বে। ক্রান্তীয় বন বছরে প্রায় ১.২ পেটাগ্রাম কার্বন শোষণ করে; ব্যাপক হারে গাছ মরলে পানি ও কার্বন চক্র এবং লাখো মানুষের জীবিকায় বিপর্যয় নামবে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন হিমাংশু নিতনাওয়ারে।
ছবি: NASA Earth Observatory / Wanmei Liang / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)