বাইরের বাতাসের মান উন্নয়নে সরাসরি লক্ষ্য করা আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ২০২৩-২৪ সালে ১৭০ কোটি ডলার বেড়ে ৪৭০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি। ক্লিন এয়ার ফান্ড ও ক্লাইমেট পলিসি ইনিশিয়েটিভের ২০২৬ সালের বৈশ্বিক বায়ুমান অর্থায়ন প্রতিবেদনের এই তথ্য ডাউন টু আর্থে বিশ্লেষণ করেছেন অনুমিতা রায়চৌধুরী।
প্রথমবারের মতো বায়ুমানের অর্থায়ন জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার দীর্ঘায়িত করে এমন অর্থায়নের সমান হয়েছে, কারণ ২০২৪ সালে শেষোক্তটি ৪৮ শতাংশ কমে ৪৭০ কোটি ডলারে নেমেছে। তবু বায়ুমানের লক্ষ্যভিত্তিক অর্থায়ন মোট আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তার ১ শতাংশেরও কম। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালে এর ৮৯ শতাংশ এসেছে অনুদান নয়, ঋণ হিসেবে, যা ঋণগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য বড় বোঝা।
দীর্ঘমেয়াদি চিত্র দুর্বল। পাঁচ বছরের চলমান হিসাবে মোট বায়ুমান অর্থায়ন ৯ শতাংশ বেড়ে ২০১৯-২০২৩ সালের ১১ হাজার ৩৮০ কোটি ডলার থেকে ২০২০-২০২৪ সালে ১২ হাজার ৪৬০ কোটি ডলার হয়েছে। কিন্তু ২০২৪ সালে তা ৬ শতাংশ কমেছে, পাঁচ বছরে প্রথম বার্ষিক পতন, কারণ পরোক্ষভাবে বাতাস পরিষ্কার করা জলবায়ু ও অবকাঠামো বিনিয়োগ ১৩ শতাংশ কমেছে। ২০২৫ সালের বড় সহায়তা কাটছাঁট এখনো এই হিসাবে আসেনি।
২০২০-২০২৪ সালে বৈশ্বিক বায়ুমান অর্থায়নের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পেয়েছে দক্ষিণ এশিয়া, মূলত শহুরে গণপরিবহন ও শিল্প রূপান্তর প্রকল্পে। তবু ২০২৪ সালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ১০ দেশের অর্ধেক মাথাপিছু ২ ডলারেরও কম পেয়েছে।
সুপার দূষক উপেক্ষিত রয়ে গেছে: ২০২০-২০২৪ সালে তহবিলের ০.১ শতাংশেরও কম মূল লক্ষ্য হিসেবে ব্ল্যাক কার্বন কমানোয় গেছে, আর ভূপৃষ্ঠের ওজোন ২০২৪ সালে পরোক্ষ সহায়তা পেয়েছে মাত্র ১১ কোটি ১০ লাখ ডলার, বায়ুমান অর্থায়নের ০.৪ শতাংশ। বিশ্লেষণে দাতাদের প্রকল্প নকশায় বায়ুমানের লক্ষ্য যুক্ত করতে এবং অনুদান ও সহজ শর্তের অর্থায়ন দিতে বলা হয়েছে; ভারতকে খাতভিত্তিক বাজেটে বায়ুমানের সূচক যুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে অর্থ শিল্প, যানবাহন, খোলা জায়গায় পোড়ানো ও গৃহস্থালি জ্বালানির দূষণ রোধে যায়।
ছবি: wili hybrid / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)