কেনিয়ার অনেক ক্ষুদ্র খামারি আগে থেকেই যে দুটি পশুখাদ্যের ঝোপগাছ লাগান, সেই ক্যালিয়ান্ড্রা (Calliandra calothyrsus) ও লিউসিনা (Leucaena leucocephala) গাভীর খাদ্যে মেশালে মিথেন নিঃসরণ প্রতি একক খাদ্যে প্রায় ১০ থেকে ১৩ শতাংশ কমেছে। গবেষণাগারের এই ফল জানিয়েছে আন্তর্জাতিক প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএলআরআই (ILRI)।
নাইরোবিতে আইএলআরআই-এর মাজিঙ্গিরা সেন্টারের বিজ্ঞানীরা সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলে কেনিয়ার একটি সাধারণ দুগ্ধ খাদ্যের প্রায় ১২ শতাংশ (শুষ্ক পদার্থের হিসাবে) বিভিন্ন ঝোপগাছের পাতা দিয়ে বদলে দেন। গরুর পাকস্থলীর হজম অনুকরণ করা ইন ভিট্রো পরীক্ষায় দেখা যায়, ক্যালিয়ান্ড্রা ও লিউসিনা মিথেন কমিয়েছে, অথচ খাদ্যের হজমযোগ্যতা বা আনুমানিক শক্তি কমায়নি। ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে জেডিএস কমিউনিকেশনস সাময়িকীতে।
গবেষকদের ধারণা, এর পেছনে মূলত ট্যানিন। মাঝারি মাত্রার ট্যানিন পাকস্থলীর মিথেন তৈরিকারী জীবাণুকে দমিয়ে রাখে, কিন্তু পশুর পুষ্টি শোষণ আটকায় না। মিথেন শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস, আবার এটি খাদ্যের এমন শক্তি যা দুধে না গিয়ে বাতাসে হারায়।
গবেষণার নেতৃত্ব দেওয়া এডওয়ার্ড এইচ. কাবেজাস গার্সিয়া (Edward H. Cabezas Garcia) বলেন, ফলাফলটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ধাপ, তবে খামারিদের পরামর্শ দেওয়ার আগে বাস্তব খাওয়ানোর পরিস্থিতিতে জীবন্ত পশুতে যাচাই করতে হবে। খামারে নিঃসরণ কমে কি না এবং দুধ অন্তত আগের মতো থাকে কি না, তা দেখতে জীবন্ত গাভীতে খাওয়ানোর পরীক্ষা পরিকল্পনায় আছে।
কেনিয়ার ক্ষুদ্র দুগ্ধ খামারে খাদ্যের ঘাটতি উৎপাদনের সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি। শুকনো মৌসুমে অনেকে নেপিয়ার ঘাস, ভুট্টার খড় ও ফসলের অবশিষ্টাংশের ওপর নির্ভর করেন; এতে দুধ কম হয় এবং প্রতি লিটারে মিথেন বেশি হয়। ঝোপগাছের পাতা এই খাদ্যের মান বাড়াতে এবং কেনা দানাদার খাদ্যের খরচ কমাতে পারে।
এই গাছ জমির আল, ঢাল বা আলাদা পশুখাদ্যের বাগানে জন্মায়, খরার সময়েও সবুজ থাকে, শিমজাতীয় বলে মাটিতে নাইট্রোজেন যোগ করে, মালচ ও জ্বালানি কাঠও দেয়। জীবন্ত পশুর পরীক্ষায় ফল টিকলে খামারিদের ভালো বীজ ও চারা এবং রোপণ, ছাঁটাই ও খাওয়ানোর মাত্রা নিয়ে হাতে-কলমে পরামর্শ লাগবে বলে আইএলআরআই জানিয়েছে।
ছবি: Forest & Kim Starr / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: ILRI





মন্তব্য
(০)