২০১৮ সালে থান্ডো সোরোশি (Thando Soroshi) তখনও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপের লেডি গ্রে (Lady Grey) শহরে তাঁর গির্জার এক সদস্য তাঁকে চারটি মুরগি উপহার দেন। বছর শেষে মুরগি দাঁড়ায় ১০০টিতে। ফুড ফর মানজি জানিয়েছে, সেই সোরোশি এখন মিশ্র খামার আর একটি শিসানিয়ামা (মাংস পুড়িয়ে বিক্রির খাবারের দোকান) চালান, নিজের নিবন্ধিত কোম্পানি সোরোশি এম্পায়ারের নামে।
প্রথম চেষ্টায় ডিম ফোটানো ব্যর্থ হয়। গাওতেং থেকে প্রায় ৩৬০টি ডিম ধরে এমন ইনকিউবেটর কিনে আনেন, সব ডিম পচে যায়। সোরোশির ভাষায়, তিনি তখন জানতেন না কী করছেন, খোঁজখবর ছিল অর্ধেক। দ্বিতীয় চেষ্টায় ২৮০টি বাচ্চা ফোটে।
ফ্রি স্টেটের একটি কৃষি উচ্চবিদ্যালয়ে পড়া শেষে ২০২৪ সালে বাড়ি ফেরেন। বাবা-মা মজওয়ান্দিলে ও নোমাবালির দেওয়া ব্রয়লার বাচ্চায় খামার বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২,০০০ মুরগিতে। লাভের টাকা ও পরিবারের সহায়তায় কেনেন চারটি শূকর; এখন পালে প্রায় ৩০টি, বছরে মেলে প্রায় ৩০০ ছানা। দ্রুত বাড়ে বলে তিনি লার্জ হোয়াইট জাত বেছেছেন, লক্ষ্য ছয় মাসে ১০০ কেজি।
খামারে আরও আছে উল ও মাংসের জন্য মেরিনো ভেড়া, যমজ বা তিনটি বাচ্চা দেওয়ার জন্য বোয়ার ছাগল, আর দেশি গরু, যেগুলোকে মাংসের জন্য বনসমারা জাতের সঙ্গে সংকর করার পরিকল্পনা। ডিমের জন্য লোম্যান ব্রাউন ও হোয়াইট লেগহর্ন, মাংসের জন্য রস ৩০৮ ব্রয়লার; শেষেরটিতেই মৃত্যুহার ও কাঙ্ক্ষিত ওজন নিয়ে সমস্যার কথা বলেছেন তিনি। তিন হেক্টর জমিতে চাষ হয় পালং, বাঁধাকপি ও টমেটো।
পশুপালনে চারজন স্থায়ী কর্মী, শিসানিয়ামায় তিনজন। রোপণ ও ফসল তোলার মৌসুমে প্রায় ৩০ জন মৌসুমি শ্রমিক কাজ পান। গত আগস্টে প্রাদেশিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিভাগ ডিইডিইএটি ৬৪৪টি মুরগি রাখার মতো খাঁচা দিয়েছে। চাচাতো ভাই লিফালাখে মাকুবেলা গাওতেংয়ের চাকরি ছেড়ে তাঁর সঙ্গে খামারে যোগ দিয়েছেন, আর পরামর্শ দেন লেডি গ্রের বাণিজ্যিক খামারি জোসেফ এনকোপানে।
স্থানীয় পাইকার ও শহরের ক্রেতারা তাঁর কাছ থেকে মুরগি, ডিম, শূকরের মাংস, গরুর মাংস ও ভেড়ার মাংস কেনেন। সামনে একটি মাংসের দোকান খোলার পরিকল্পনা আছে। প্রতিবেদনটি করেছেন ভাতেকা হালিলে।
ছবি: Bel Adone / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: Food for Mzansi





মন্তব্য
(০)