ইসলামের মূল প্রতিপাদ্য মানুষ ও মানবতা, আর ধর্মটি সব মানুষের জন্য সর্বজনীন। প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক কলামে এ কথা লিখেছেন অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী, যিনি বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজমের সহকারী অধ্যাপক। লেখার মতামত তাঁর নিজের।
তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, কোরআনে আল্লাহ মানুষকে সম্বোধন করেছেন 'হে মানুষ' বলে, আর হজরত মুহাম্মদ (সা.) 'রহমাতুল্লিল আলামিন', সব জগতের জন্য রহমত। ইসলাম শব্দের অর্থ আনুগত্য ও শান্তি, মুসলিম মানে অনুগত ও শান্তিকামী মানুষ; ইমান মানে বিশ্বাস ও নিরাপত্তা, আর আমানত মানে বিশ্বস্ততার সঙ্গে যা রক্ষা করা হয়।
লেখকের মতে ধর্মের মূল কথা নীতি-নৈতিকতা, বিশ্বস্ততা ও মানবতা, আর এর উদ্দেশ্য দুনিয়ায় শান্তি ও পরকালে মুক্তি। এ জন্য দরকার মানুষের সদ্গুণের বিকাশ এবং লোভ, ক্রোধ, হিংসা ও দম্ভের মতো প্রবৃত্তির নিয়ন্ত্রণ। সুশাসন, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, ধৈর্য ও সহিষ্ণুতাকে তিনি নৈতিকতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন।
কলামে বলা হয়েছে, দুনিয়ার সব মানুষ এক আদমের সন্তান, তাই জন্মগতভাবে কারও ওপর কারও প্রাধান্য নেই; আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত সে-ই, যে সবচেয়ে বেশি পরহেজগার। দেশ, জাতি, ভাষা ও বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের এই ঐক্যকেই তিনি ভ্রাতৃত্ব বা উখওয়াত বলেছেন।
সুরা আলে ইমরানের ১০৩ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে লেখক ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন: আল্লাহর রজ্জু আঁকড়ে ধরো, বিচ্ছিন্ন হয়ো না। সঙ্গে বুখারি ও মুসলিমের হাদিসের উল্লেখ করেছেন, আরবের ওপর অনারবের বা অনারবের ওপর আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই।
শেষে তিনি নবীজির (সা.) একটি হাদিস মনে করিয়ে দিয়েছেন: মুসলিমরা পরস্পর ভাই, কেউ অন্যের প্রতি জুলুম করে না; যে ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করেন, আর যে কারও কষ্ট লাঘব করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার কষ্ট দূর করবেন।
ছবি: Ferdous / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0); বায়তুল মোকাররম, ঢাকা
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)