প্রথম আলোর সিডনি প্রতিনিধি ও অস্ট্রেলিয়ার নিবন্ধিত অভিবাসন পরামর্শক কাউসার খান এক মতামত লেখায় প্রশ্ন তুলেছেন, ডেঙ্গুতে প্রতিদিন মানুষ মরছে যে বাংলাদেশে, সেখানে টিকা নেই; আর যে অস্ট্রেলিয়ায় স্থানীয় ডেঙ্গু প্রায় নেই, সেখানে টিকা মজুত। লেখার মতামত লেখকের নিজের।
লেখার শুরুতে তিনি এক পারিবারিক বন্ধুর মেয়ের মৃত্যুর কথা লিখেছেন: ৮ বছর ১০ মাস বয়সী রুমাইসার জ্বর এসেছিল ২৯ সেপ্টেম্বর, ১ অক্টোবর ঢাকার একটি হাসপাতালে খিঁচুনি আর অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের পর সে মারা যায়; তার বাবা-মা দুজনেই চিকিৎসক।
লেখক জানান, অস্ট্রেলিয়ায় এখন জাপানি প্রতিষ্ঠান তাকেদার ডেঙ্গু টিকা কিউডেঙ্গা চার বছর বা তার বেশি বয়সী যে কেউ পারিবারিক চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রে দুই ডোজে নিতে পারেন, যদিও তা সরকারি ভর্তুকির তালিকায় নেই। দেশটির সরকারি তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি লিখেছেন, গত বছরের মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসে সেখানে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল ২ হাজার ৬৪১ জনের, যাঁদের ৯৪ শতাংশের বেশি বিদেশে সংক্রমিত।
লেখকের উল্লেখ করা তথ্যমতে, ২০ হাজারের বেশি শিশু-কিশোরের ওপর আন্তর্জাতিক ট্রায়ালে টিকাটি নিশ্চিত ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে ৮০ শতাংশের বেশি কার্যকর এবং হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি কমিয়েছে প্রায় ৯৫ শতাংশ। ২০২৩ সালের অক্টোবরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞ দল সেজ উচ্চ সংক্রমণ এলাকায় ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের জন্য তিন মাসের ব্যবধানে দুই ডোজ সুপারিশ করে, ২০২৪ সালের মে মাসে টিকাটি প্রিকোয়ালিফিকেশন পায়। চল্লিশটির বেশি দেশে এটি অনুমোদিত, ভারতও চলতি বছর ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের জন্য অনুমোদন দিয়েছে; বাংলাদেশে নিবন্ধন বা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে স্পষ্ট বার্তা নেই।
লেখক সরকারের কাছে চারটি প্রস্তাব রেখেছেন: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর দ্রুত টিকাটির মূল্যায়ন করুক; বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ মেনে উচ্চ ঝুঁকির এলাকায় শিশু-কিশোর ও সম্মুখসারির কর্মীদের জন্য সীমিত পরিসরে টিকাদান শুরু হোক; প্রস্তুতকারক ও জাতিসংঘের সহায়তায় সাশ্রয়ী দামে সরকারিভাবে আমদানি হোক; আর পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রেখে জনসচেতনতা বাড়ানো হোক। তবে টিকা এলেই সব ঠিক হবে না, মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান সমান্তরালে চলতে হবে, এবং প্রায় ৪৮ হাজার মশা নিয়ন্ত্রণ কমিটির বেশির ভাগ কার্যত নিষ্ক্রিয় বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
ছবি: US Department of Agriculture / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)