দেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ মিঠাপানির অঞ্চলগুলোর একটি হয়েও উত্তর-পূর্ব ভারত নিজের মাছের চাহিদা মেটাতে পারছে না। কৃষি জাগরণে (Krishi Jagran) প্রকাশিত এক মতামত কলামে এ কথা লিখেছেন তরুণ শ্রীধর (Tarun Shridhar)। মতামত লেখকের নিজস্ব।
লেখকের হিসাবে অঞ্চলটিতে আছে ৪২,৬৯১ কিলোমিটার নদী ও খাল, ১.৮৩ লাখ হেক্টরের বেশি জলাভূমি, ভারতে নথিভুক্ত মিঠাপানির মাছের প্রজাতির প্রায় ৪৫ শতাংশ এবং আড়াইশোর বেশি শোভাবর্ধক মাছের প্রজাতি। মাছের উৎপাদন বছরে ৫.৩৮ শতাংশ হারে বেড়ে প্রায় ৭ লাখ টনে পৌঁছেছে, তবু আট রাজ্য মিলে প্রতি বছর অন্ধ্রপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ থেকে মোটামুটি ৫০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টন মাছ আনে।
শ্রীধরের মতে সবচেয়ে দুর্বল জায়গা কোল্ড চেইন। প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনার (পিএমএমএসওয়াই) আওতায় আট রাজ্যে অনুমোদন পেয়েছে মাত্র ৩৪টি হিমাগার। ফলে ত্রিপুরার কোনো চাষি মিঠাপানির গলদা চিংড়ি তুললে নিকটতম হিমাগার হয়তো ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে, পাহাড়ি পথে। পাইকারি বাজারে পৌঁছাতে পৌঁছাতে এক-তৃতীয়াংশ মাল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
অঞ্চলে প্রায় পাঁচ হাজার চাষি শোভাবর্ধক মাছ পালেন, অরুণাচল প্রদেশ ও নাগাল্যান্ডে অনেকে বাড়ির উঠানের চৌবাচ্চায়। বাজার কাঠামো না থাকায় তাঁদের বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক দামের সামান্য অংশে মধ্যস্বত্বভোগীর কাছে বিক্রি করেন বলে লেখক জানান। বিশ্বের শোভাবর্ধক মাছের বাণিজ্যে ভারতের অংশ ১ শতাংশেরও কম। আসাম ও অরুণাচলের বারকা স্নেকহেড (Channa barca) মাছের এক জোড়া বিদেশের অ্যাকোয়ারিয়ামের দোকানে কয়েক লাখ রুপিতে বিকোয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রমাণিত পদ্ধতিগুলোও প্রায় অব্যবহৃত বলে লেখকের যুক্তি। আসাম ও মণিপুরের পরীক্ষায় নদীতে খাঁচায় চাষে প্রতি ঘনমিটারে ১০ থেকে ১৫ কেজি মাছ এবং প্লাবনভূমিতে ঘেরে চাষে প্রতি মৌসুমে হেক্টরে ৭ থেকে ৮ টন মাছ মিলেছে। মেঘালয়ের রি-ভই জেলায় ধানক্ষেতে মাছ চাষ হয়, আর অঞ্চলের ২৭ হাজার হেক্টরের বেশি জমি এর উপযোগী। শীতে ইইউএস (এপিজুটিক আলসারেটিভ সিনড্রোম) রোগে চাষির পুরো মাছ মরে যেতে পারে, অথচ সম্প্রসারণ কর্মী কম।
কলামে বলা হয়েছে, আগরতলা থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর মাত্র প্রায় ২০০ কিলোমিটার। রাস্তা, কোল্ড চেইন ও সনদের ব্যবস্থা থাকলে এই পথে ট্রাউট, মহাশোল, চিংড়ি ও শোভাবর্ধক মাছ জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাজারে যেতে পারে। গত ১২ ও ১৩ জুন গুয়াহাটিতে হওয়া অ্যাকুয়াএক্স নর্থইস্ট ২০২৬ প্রদর্শনীকে তিনি চাষি, সরবরাহকারী ও ঋণদাতাদের মিলনস্থল হিসেবে তুলে ধরেন।
লেখকের প্রস্তাব: মৎস্যচাষিদের উৎপাদক সংগঠনগুলো কাগজে নয়, কাজে চালু করা; রাজ্যের রাজধানীতে নয়, জেলায় হিমাগার গড়া; নদী ও জলাধারের ইজারা স্বচ্ছ ও দীর্ঘমেয়াদি করা; এবং আট রাজ্যেই মাছের পোনার মান সনদের আওতায় আনা।
ছবি: ch_15march / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: কৃষি জাগরণ





মন্তব্য
(০)