স্বাবলম্বী করার জন্য সরকারি প্রকল্পে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে দেওয়া ছাগলের বেশির ভাগই এক মাসের মধ্যে মারা গেছে। শেষ ধাপে বিতরণ করা ২৪০টি ছাগলের ১৭২টি মারা যাওয়ায় লাভের বদলে লোকসানে পড়েছেন উপকারভোগীরা।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ‘উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী ৮৬টি সুবিধাবঞ্চিত এলাকা ও নদীবিধৌত চরাঞ্চলের সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় দেওয়ানগঞ্জে পাঁচ ধাপে ৭৭০ জন উপকারভোগীকে ১ হাজার ৫৩০টি ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল দেওয়া হয়। জুলাইয়ের ৩ ও ১৫ তারিখে দেওয়া শেষ ধাপে ১২০টি পরিবার পায় ২৪০টি ছাগল।
উপকারভোগীদের অভিযোগ, প্রকল্পের নিয়মে প্রতিটি ছাগলের ওজন আট কেজি হওয়ার কথা থাকলেও শেষ চালানের বেশির ভাগ ছাগল ছিল রোগা, দুর্বল, ওজনে তিন থেকে চার কেজি। আজিরন বেগম জানান, তাঁকে দেওয়া দুটি বাচ্চা ছাগল আনার এক সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমণে সেগুলোসহ তাঁর আগের আটটি ছাগলও মারা গেছে, বেঁচে আছে একটি ছানা। তারা মিয়া বলেন, কর্মকর্তাদের জানিয়েও কেউ আসেননি, নিজেরা তিন হাজার টাকা খরচ করে চিকিৎসক দেখিয়েও ছাগল বাঁচাতে পারেননি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, বিতরণের সময় ছাগলগুলো ভালো ছিল, ওজনও মাপা হয়েছিল। মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়ার পর প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং মৃত্যুর কারণ জানতে নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। কর্মকর্তারা মাঠে যাননি, এই অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, মৃত ছাগলের তালিকা করা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক ডা. নন্দ গোপালের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দেওয়ানগঞ্জের ইউএনও শাহ জহুরুল হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে ক্ষতিপূরণের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, তাঁদের আবার ছাগল দেওয়া হবে বলে আশা করছেন তিনি।
প্রতিবেদনটি বাংলানিউজের ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্টের।
ছবি: ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল (ফাইল ছবি), Ragib Hasan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪




মন্তব্য
(০)