এ বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৩০০ ছাড়িয়ে যাওয়াকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতার দলিল বলেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও নগর অধিকারকর্মী ওমর সাদাত। প্রথম আলোর মতামত পাতায় সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত কলামে তাঁর যুক্তি, সরকার, মন্ত্রী ও সিটি করপোরেশনের নেতৃত্ব বদলালেও ফল বদলায়নি; তাই সমস্যাটি মশার নয়, সুশাসনের। মতামতগুলো লেখকের নিজস্ব।
লেখক মনে করিয়ে দেন, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ জীবনের অধিকার এবং ১৮ অনুচ্ছেদ জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব করেছে; প্রতিরোধযোগ্য রোগে বছরের পর বছর শত শত মৃত্যু তাঁর মতে এই দায়িত্বের লঙ্ঘন। সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়ার মতো উষ্ণ দেশেও এডিস মশা আছে, তারা নজরদারি, উৎসে মশা নিধন ও জবাবদিহি দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সফল হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কলামে বলা হয়েছে, সরকারি জরিপেই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ১৩টি ওয়ার্ড উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এবং সিমেন্টের পানির ট্যাংক ও জলমগ্ন মেঝে বড় প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল, তবু কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রতিবছর শত শত কোটি টাকা মশা নিধনে খরচ হলেও ওয়ার্ডভিত্তিক মশার মানচিত্র, কীটনাশকের কার্যকারিতা ও প্রতিরোধক্ষমতা পরীক্ষার ফল বা স্বাধীন নিরীক্ষা প্রকাশ হয় না বলে লেখকের অভিযোগ। ঢাকা উত্তর সিটি একটি কীটনাশক পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় নিষিদ্ধ করলেও দক্ষিণ সিটি তা ব্যবহার চালিয়ে গেছে এবং দুদক দক্ষিণ সিটির কীটনাশক ভান্ডারে অভিযান চালিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ পেয়েছে, কলামে এসব ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে।
তুলনা হিসেবে তিনি কলকাতার উদাহরণ দেন, যেখানে ফগিংয়ের বদলে বর্ষার আগে নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত আট মাস উৎসেই মশা নিধনের কাজ চালিয়ে সাফল্য এসেছে। তাঁর প্রস্তাব, সিটি করপোরেশন আইনে বার্ষিক মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মপরিকল্পনা দাখিল ও অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা এবং বাস্তবায়ন না হলে শাস্তির বিধান রাখা।
লেখকের অন্যান্য সুপারিশের মধ্যে আছে ডেঙ্গুকে মৌসুমি নয়, স্থায়ী জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকার হিসেবে আইনি স্বীকৃতি দিয়ে সারা বছরের বাজেট, জনবল ও জবাবদিহি ঠিক করা; প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলায় মৃত্যু প্রমাণিত হলে পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের কাঠামো; এবং জনস্বার্থে মামলা করে উচ্চ আদালত থেকে জাতীয় নির্দেশনা আদায়। তাঁর ভাষায়, প্রশ্নটি কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, রাষ্ট্রযন্ত্রের জবাবদিহির সক্ষমতার।
ছবি: এডিস ইজিপ্টাই মশা। ছবি: Graham Snodgrass, Army Medicine / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)