খামার ও খাদ্যশিল্পে ডিজিটাল প্রযুক্তি এলে সিদ্ধান্ত দ্রুত হয়, ফলন বাড়ে, শ্রমের খরচ কমে, এ কথা স্টার্টআপ আর বিনিয়োগকারীরা প্রায়ই বলেন। কিন্তু পুরো খাদ্যব্যবস্থাকে ইন্টারনেটে জুড়ে দিলে যে সাইবার ঝুঁকি তৈরি হয়, তা নিয়ে আলোচনা খুব কম। ১২ অক্টোবর প্রকাশিত এক স্বাক্ষরিত কলামে এ কথা লিখেছেন এজিফান্ডনিউজের (AgFunderNews) সম্পাদক জেনিফার মারস্টন (Jennifer Marston)। মতামত লেখকের নিজস্ব।
উদাহরণ হিসেবে তিনি সেই সপ্তাহে ফ্রান্সের একটি ঘটনার কথা বলেছেন। রয়টার্সের বরাতে তিনি লিখেছেন, হ্যাকাররা ফ্রান্সের কয়েকশ সুপারমার্কেটের ফ্রিজার ও ফ্রিজের তাপমাত্রা ১২২ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত তুলে দেয়। এতে খাবার নষ্ট হয়, কোথাও কোথাও আগুনও লাগে। ইন্টারনেটে নিয়ন্ত্রিত এই হিমায়িত খাবারের তাকগুলো পুরোনো সফটওয়্যারে চলছিল।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃষি ও খাদ্য খাতে আরও হামলার কথা তুলে ধরেছেন মারস্টন: বিতরণকেন্দ্রের অর্ডার ব্যবস্থা অচল করা, শূকর খামারের বায়ু চলাচল ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া, যাতে পশুগুলো নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়, আর খাবারের দোকানে উপকরণের সরবরাহ বন্ধ করা। তাঁর হিসাবে ২০২৫ সালে এ খাতে র্যানসমওয়্যার হামলা দ্বিগুণ হয়ে ২৬৫টিতে দাঁড়ায়, যা ২০২৪ সালের চেয়ে ২৯ শতাংশ বেশি। অনেক হামলার খবর প্রকাশ পায় না বলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে তাঁর ধারণা।
লেখকের মতে খাদ্য খাতের ক্ষতিটা চোখে দেখা যায়: নষ্ট খাবার আর বিক্রি হয় না, খালি তাক সবার নজরে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআই ও সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সিআইএসএ (CISA) দুটিই নির্ভুল কৃষিকে (প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার) নতুন দুর্বল জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবু এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পরামর্শপত্র ২০১৮ সালের পর হালনাগাদ হয়নি, আর হামলার তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতাও দুর্বল। বিনিয়োগকারীদের উচিত স্মার্ট হারভেস্টার, সরবরাহ প্ল্যাটফর্ম বা খামারের এআই পণ্যে টাকা দেওয়ার আগে তার নিরাপত্তা যাচাই করা, বলেছেন তিনি।
কলামে একটি আশার খবরও আছে। নেচার ফুড (Nature Food) সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে যুক্তরাষ্ট্রে একটি জাতীয় কৃষি সাইবার নিরাপত্তা কনসোর্টিয়াম গড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। খামার, সমবায়, কৃষি ব্যবসা, সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের দেড়শ জনের বেশি অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে কর্মশালার ভিত্তিতে লেখা এই প্রস্তাবের লক্ষ্য সংকট সামলানোর বদলে আগাম প্রস্তুতি।
আইসি-ফুডসের প্রধান বিজ্ঞানী ও ইউসি ডেভিসের কম্পিউটার বিজ্ঞানের প্রভাষক রিচার্ড হাল (Richard Hull) বলেছেন, প্রতিদিন লাখো ছোট ও মাঝারি কৃষি-খাদ্য প্রতিষ্ঠান সত্যিকারের সাইবার ঝুঁকিতে থাকে, যদিও অনেকে জানে না তারা কতটা অরক্ষিত। হাল চান, ফসলের স্বাস্থ্য, প্রাণিস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি সাইবার সুরক্ষাও খামার ও খাদ্য প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কাজের অংশ হোক।
কৃষিপ্রযুক্তি বিশ্লেষক ঋষি পেঠে (Rhishi Pethe) মারস্টনকে বলেছেন, এ খাতে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে খোলামেলা কথা বলার সংস্কৃতি দরকার, যেমনটা ব্যাংক ও স্বাস্থ্য খাতে কয়েক দশক ধরে আছে। মারস্টন জানিয়েছেন, সামনের মাসগুলোতে এজিফান্ডনিউজ এ বিষয়ে উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, হামলার শিকার প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদন করবে।
সংযুক্ত সেন্সর, সেচ নিয়ন্ত্রক বা মোবাইলে চালানো হিমাগার যাঁরা ব্যবহার করেন, তাঁদের জন্য ফ্রান্সের ঘটনার শিক্ষা একটাই: পুরোনো সফটওয়্যারে চলা যন্ত্রই হ্যাকারদের সবচেয়ে সহজ পথ।
ছবি: Maryland Pride / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ





মন্তব্য
(০)