মানসিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় নিতে কমিউনিটিভিত্তিক নতুন প্রকল্প তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। প্রথমে ২০টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে প্রকল্পটি চালুর পরিকল্পনা আছে; অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ দেখে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সেবা ছড়ানো হবে।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার বাংলা একাডেমিতে আঁচল ফাউন্ডেশনসহ চারটি বেসরকারি সংগঠনের সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেবা শুধু চিকিৎসায় আটকে রাখলে চলবে না; প্রতিরোধ, শুরুতেই সমস্যা শনাক্ত, চিকিৎসা, মনোসামাজিক সহায়তা ও পুনর্বাসন মিলিয়ে ব্যবস্থা গড়তে হবে, জেলা-উপজেলার প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয় ও দরকারে বিশেষায়িত কেন্দ্রে রোগী পাঠানোর ব্যবস্থাসহ।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৯ অনুযায়ী, দেশে ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ৭ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের ১৩ দশমিক ৬ শতাংশের মানসিক স্বাস্থ্যসমস্যা ছিল। তাঁদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের ৯২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ কোনো চিকিৎসা নেয়নি।
মূল প্রবন্ধে হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের পরিচালক ও মানসিক স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ মো. জিয়ানুর কবির বলেন, কুসংস্কার, ভয়, লজ্জা ও বৈষম্যের কারণে অনেকে সেবা নিতে চান না। তিনি উপজেলা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে সেবা বাড়ানো, দক্ষ জনবল, প্রযুক্তিনির্ভর কাউন্সেলিং, জেলা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মনোবিজ্ঞানী নিয়োগ এবং আলাদা মানসিক স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠনের সুপারিশ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী মানসিক স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়ানো এবং প্রতিটি উপজেলায় অন্তত দুজন কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার নিয়োগের প্রস্তাব দেন। আঁচল ফাউন্ডেশনের সভাপতি তানসেন রোজ বলেন, বিশেষজ্ঞ কম, তাই সমাজের সামনের সারির মানুষদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সাইকোসোশ্যাল কাউন্সেলর তৈরি করতে হবে।
গ্রামে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রায় নেই বললেই চলে; উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষিত কর্মী থাকলে কৃষক, শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের মানুষ প্রথমবারের মতো কাছেই সহায়তা পেতে পারেন।
ছবি: বাংলা একাডেমি, ঢাকা (ফাইল ছবি), Ashfaq Mahmud / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)