কোকোমুক্ত চকলেট চোভিভা (ChoViva)-র নির্মাতা জার্মান স্টার্টআপ প্ল্যানেট এ ফুডস (Planet A Foods) বাজারে এনেছে কোকো বুস্টার (Cocoa Booster) নামে এক উপাদানের একটি পাউডার, যা কোকো পাউডারের আংশিক বা পুরো বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে, জানিয়েছে গ্রিন কুইন। কোকোর দামের নতুন ঊর্ধ্বগতিতে চাপে থাকা খাদ্য প্রস্তুতকারক এবং ওজন কমানোর জিএলপি-১ ওষুধ সেবনকারীদের বাজার, দুটিকেই লক্ষ্য করছে প্রতিষ্ঠানটি।
পেছনে আছে কোকোর বাজার। ২০২৪ সালে রেকর্ড দামের পর ২০২৫ জুড়ে দাম কমেছিল, কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে আবার ৭০ শতাংশ বেড়েছে। গ্রিন কুইন লিখেছে, এবারের ধাক্কা কোকো বাটারের চেয়ে কোকো পাউডারে বেশি লাগবে বলে ধারণা। প্রধান নির্বাহী মাক্সিমিলিয়ান মারকোয়ার্ট (Maximilian Marquart) বলছেন, কতটা ও কোন পণ্যে ব্যবহার হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে নতুন উপাদানটি রেসিপির খরচ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে।
ভাইয়ের সঙ্গে ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠানটি গড়েছেন প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা সারা মারকোয়ার্ট (Sara Marquart)। তিনি জানান, শুরুতে গাঁজন-অনুপ্রাণিত একটি প্রক্রিয়া, তারপর ভাজা, শেষে কোকো পাউডারের মতো সূক্ষ্ম কণায় মিহি করা হয়। স্বাদ ও গন্ধ আসে এই প্রক্রিয়া থেকেই, বাড়তি কোনো ফ্লেভার মেশানো হয় না। প্রতিযোগিতার কারণ দেখিয়ে কাঁচামালটি কী তা জানানো হয়নি, তবে সেটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে সংগ্রহ করা হয়, ফলে পশ্চিম আফ্রিকার ফসলের ওপর নির্ভর করতে হয় না।
প্রতিষ্ঠানের হিসাবে, প্রতি ১০০ গ্রাম কোকো বুস্টারে আঁশ প্রায় ৬৯ গ্রাম, যেখানে কোকো পাউডারে প্রায় ৩৭ গ্রাম; চর্বি প্রায় ৫০ শতাংশ কম। প্রাকৃতিক, অ্যালকালাইজড ও ডার্ক, এই তিন ধরনে পাওয়া যাবে, যাতে সংশ্লিষ্ট কোকো পাউডারের রং ও স্বাদের সঙ্গে মেলে এবং বিস্কুট, মাফিন, কেক, পুডিং, ফিলিং ও পানীয়ের প্রচলিত রেসিপিতে প্রক্রিয়া না বদলেই ব্যবহার করা যায়। চোভিভার পরিবেশক অংশীদার ব্যারি ক্যালেবো (Barry Callebaut) নিজেদের বিক্রয় ও গবেষণা নেটওয়ার্কে এটিও সরবরাহ করবে।
উৎপাদন হচ্ছে চেক প্রজাতন্ত্রের প্লজেনে (Pilsen) প্রতিষ্ঠানটির কারখানায়, যার বার্ষিক সক্ষমতা ১৫,০০০ টন; ছয় গুণ বড় দ্বিতীয় একটি কারখানা চালুর প্রক্রিয়া চলছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ভারত, মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন বাজারের বড় মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, এবং ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকের দিকে প্রথম পণ্য দোকানে আসবে বলে আশা।
কোকো উৎপাদনকারী দেশগুলোর জন্য এটি আরেকটি ইঙ্গিত যে প্রস্তুতকারকেরা এমন উপাদান খুঁজছেন, যা আবহাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘানা ও আইভরি কোস্টের ফসলের ওপর নির্ভর করে না। প্রতিবেদনটি লিখেছেন আনায় মৃদুল।
ছবি: blair (a bowl of cocoa powder) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Green Queen





মন্তব্য
(০)