ঠোঁটকাটা বা তালুকাটা শিশুর জন্মগত ত্রুটির মধ্যে খুব পরিচিত। অনেক পরিবার একে অভিশাপ বা অমঙ্গল মনে করে কুসংস্কারে ভোগে। বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও ইউনিট প্রধান ডা. শাহনূর শারমিন প্রথম আলোয় লিখেছেন, এটি একটি শারীরিক ত্রুটি, যার সুচিকিৎসা আছে।
তাঁর লেখায়, গর্ভাবস্থার ৪ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে শিশুর মুখের পাঁচটি খণ্ড জোড়া লেগে ঠোঁট ও তালু তৈরি হয়; এ প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হলে ফাঁক থেকে যায়। প্রতি ৭০০ শিশুর একজনের এ সমস্যা দেখা যায়। বংশগত প্রবণতা, ফলিক অ্যাসিডের অভাব, মায়ের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, ধূমপান বা গর্ভাবস্থায় কিছু ওষুধ ভূমিকা রাখতে পারে, তবে অনেক সময় কারণ পাওয়া যায় না, তাই মা-বাবাকে দোষ দেওয়া ঠিক নয়।
চিকিৎসা চলে ধাপে ধাপে। ৩ থেকে ৬ মাস বয়সে ঠোঁট জোড়া দেওয়া হয়, শিশুর ওজন পাঁচ কেজি ও হিমোগ্লোবিন ১০ হলে; শুধু ত্বক নয়, ভেতরের পেশি জোড়া দিতে হয় যাতে সে হাসতে পারে। ৯ থেকে ১২ মাসে, কথা শেখার আগে, তালু জোড়া দেওয়া হয়। ৬ থেকে ৮ বছরে স্থায়ী দাঁত ওঠার আগে মাড়ির হাড় গঠন, আর ৯ থেকে ১৮ বছরে নাকের ছোটখাটো সংশোধন।
অস্ত্রোপচারের আগে খাওয়ানো বড় চ্যালেঞ্জ। তালুকাটা শিশুর দুধ টানতে কষ্ট হয়, কখনো দুধ নাক দিয়ে বেরিয়ে আসে, তাই প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর কাছে খাওয়ানোর কৌশল শেখা এবং দরকারে বিশেষ ফিডিং বোতল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ওজন, কানের সংক্রমণ, শ্রবণশক্তি ও দাঁতের বিকাশেও নজর রাখতে হয়। কথায় নাকি সুর বা উচ্চারণের সমস্যা হলে স্পিচ থেরাপি লাগতে পারে; শিশুকে উপহাস না করে উৎসাহ দেওয়াই জরুরি।
ভালো চিকিৎসার জন্য প্লাস্টিক সার্জনের পাশাপাশি শিশুবিশেষজ্ঞ, অ্যানেসথেসিওলজিস্ট, দন্ত ও অর্থোডন্টিক বিশেষজ্ঞ, স্পিচ থেরাপিস্ট, নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ও পুষ্টিবিদের সমন্বয় দরকার।
ডা. শাহনূর শারমিন লিখেছেন, দেশে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, বিশেষায়িত কেন্দ্র এবং স্মাইল ট্রেইনের মতো দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে অনেক শিশু চিকিৎসা পাচ্ছে। তবে প্রত্যন্ত এলাকায় বিশেষজ্ঞের অভাব, আর্থিক অসচ্ছলতা, কুসংস্কার এবং অস্ত্রোপচারের পর নিয়মিত ফলোআপে না আসা এখনো বড় বাধা।
ছবি: চট্টগ্রামে অপারেশন স্মাইলের চিকিৎসকদের ঠোঁটকাটা অস্ত্রোপচার (২০০৬, ফাইল ছবি), U.S. Navy / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)