গর্ভে থাকা শিশুর ফুসফুসের বড় টিউমার খোলা অস্ত্রোপচার ছাড়াই ছোট করতে সফল হয়েছেন চীনের চিকিৎসকেরা। বিরল জন্মগত ফুসফুসের ত্রুটি ‘কনজেনিটাল পালমোনারি এয়ারওয়ে ম্যালফরমেশন’ (সিপিএএম) চিকিৎসায় মাইক্রোওয়েভ অ্যাবলেশন পদ্ধতির এটিই প্রথম সফল প্রয়োগ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ‘আলট্রাসাউন্ড ইন অবস্টেট্রিকস অ্যান্ড গাইনোকোলজি’-তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪০ বছর বয়সী এক নারীর ২২ সপ্তাহের গর্ভাবস্থায় আলট্রাসনোগ্রাফিতে শিশুর ফুসফুসে প্রায় পাঁচ সেন্টিমিটারের অস্বাভাবিক টিস্যু ধরা পড়ে। দ্রুত বাড়তে থাকা টিস্যুটি শিশুর হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসে চাপ দিচ্ছিল, পেটেও বিপজ্জনক মাত্রায় তরল জমছিল।
সিপিএএম প্রতি ২৫ থেকে ৩৫ হাজার গর্ভধারণে আনুমানিক একটিতে দেখা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গুরুতর জটিলতা হয় না, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে টিস্যু দ্রুত বেড়ে গর্ভেই শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এর জন্য সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই: কখনো মাকে স্টেরয়েড দেওয়া হয়, বড় তরলপূর্ণ সিস্টে সুচ দিয়ে নিষ্কাশন নল বসানো হয়, গুরুতর হলে ভ্রূণের আক্রান্ত অংশ অস্ত্রোপচারে সরাতে হয়; প্রতিটি পদ্ধতিতেই ঝুঁকি আছে।
এবার চিকিৎসকেরা মায়ের পেটের ভেতর দিয়ে একটি সরু সুচ সরাসরি শিশুর ফুসফুসের অস্বাভাবিক টিস্যুতে ঢুকিয়ে মাইক্রোওয়েভ শক্তি প্রয়োগ করেন। তাতে টিস্যুর পানির অণু দ্রুত কেঁপে তাপ তৈরি করে, আর সেই তাপে অস্বাভাবিক টিস্যু নষ্ট হয়ে যায়। তিন দিনের মধ্যেই টিউমার উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট হয়, পেটের তরলও পুরোপুরি সরে যায়। গর্ভাবস্থার ৩৭তম সপ্তাহে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারে শিশুটির জন্ম হয়, ওজন ছিল প্রায় ২ দশমিক ৯ কেজি।
চীনা চিকিৎসকেরা ঘটনাটিকে চিকিৎসাক্ষেত্রে ‘নতুন মাইলফলক’ বলছেন। তবে এখন পর্যন্ত পদ্ধতিটি একজন রোগীর ক্ষেত্রেই প্রয়োগ হয়েছে, তাই এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা আর একাধিক রোগীর ওপর পরীক্ষা দরকার বলে জানিয়েছেন তাঁরা। প্রতিবেদনটি ইত্তেফাকের।
সূত্র: ইত্তেফাক




মন্তব্য
(০)