দিনে ১০ হাজার কদম হাঁটার লক্ষ্য বহুল প্রচলিত হলেও এর পেছনে কোনো চিকিৎসা-গবেষণা নেই। ইত্তেফাকের এক প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ধারণাটি জনপ্রিয় হয় ১৯৬৪ সালের টোকিও অলিম্পিকের আগে জাপানে পদক্ষেপ-গোনার একটি যন্ত্রের প্রচারণা থেকে। গবেষণা বলছে, দিনে প্রায় সাত হাজার কদম হাঁটলেও অকালমৃত্যু ও নানা রোগের ঝুঁকি কমার সঙ্গে উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক আছে।
২০২৫ সালে ল্যানসেট পাবলিক হেলথ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় ২০১৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রকাশিত হাঁটা-সংক্রান্ত ৫৭টি গবেষণাপত্র পর্যালোচনা করা হয়। তাতে দেখা যায়, দিনে দুই হাজারের তুলনায় সাত হাজার কদম হাঁটার সঙ্গে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি ৪৭ শতাংশ, হৃদ্রোগ ও রক্তনালির রোগের ঝুঁকি ২৫ শতাংশ এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ১৪ শতাংশ কম থাকার সম্পর্ক আছে। দুই হাজার থেকে চার হাজার কদমে বাড়ালেও মৃত্যুঝুঁকি ৩৬ শতাংশ কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
গবেষণার নেতৃত্ব দেওয়া সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রোগতত্ত্ববিদ মেলোডি ডিং বলেন, বেশির ভাগ স্বাস্থ্যফলের ক্ষেত্রে সাত হাজার কদমের পর বাড়তি হাঁটার বাড়তি উপকার কমে আসে। অর্থাৎ বেশি হাঁটলেও উপকার আছে, তবে সাত হাজারের জায়গায় ১০ হাজার হাঁটলে মৃত্যুঝুঁকি কমার বাড়তি সুবিধা তুলনামূলক সামান্য। তাঁর মতে, হাঁটার সময় হৃৎস্পন্দন বাড়লে বা একটু হাঁপিয়ে উঠলে তা উপকারী হতে পারে।
গতিও গুরুত্বপূর্ণ। গত সেপ্টেম্বরে ব্রিটিশ জার্নাল অব স্পোর্টস মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণায় অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের এমানুয়েল স্তামাতাকিস ও সহকর্মীরা যুক্তরাজ্যের এক বড় তথ্যভান্ডারের ৬৪ হাজার ৭৪৩ জনকে প্রায় আট বছর পর্যবেক্ষণ করেন। দিনে শূন্য থেকে পাঁচ হাজার দ্রুত পদক্ষেপের সঙ্গে ঝুঁকি কমার যে সম্পর্ক, তা পাঁচ থেকে সাড়ে সাত হাজার ধীর পদক্ষেপের প্রায় সমান।
ওই গবেষণার ফল অনুযায়ী, দিনে সাড়ে সাত হাজার থেকে ১০ হাজার কদমের লক্ষ্য রাখা এবং তার মধ্যে কিছু সময় মিনিটে প্রায় ১০০ পদক্ষেপের গতিতে হাঁটা কার্যকর হতে পারে। সময় কম হলে স্তামাতাকিসের পরামর্শ, দৈনন্দিন কাজেই হাঁটার সুযোগ তৈরি করুন, যেমন দোকানের দরজার একেবারে কাছে গাড়ি না রেখে একটু দূরে রেখে বাকি পথ জোরে হেঁটে যাওয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো পরিমাণ হাঁটা না হাঁটার চেয়ে ভালো।
ছবি (প্রতীকী): পার্কে হাঁটা। ছবি: John Robert McPherson / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ইত্তেফাক





মন্তব্য
(০)