আজ ১২ অক্টোবর বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস। দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গবেষণার হিসাবে বাংলাদেশে চার কোটির বেশি মানুষ শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টের ব্যথায় ভোগেন; এর মধ্যে দুই ধরনের আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত প্রায় ৮৩ লাখ। ঢাকার জুরাইনের ৫৫ বছরের আব্দুল কাদের হাঁটুর ব্যথায় লিফটহীন বাসার পাঁচতলায় ওঠেন অন্যের সাহায্যে; এমন মানুষ অনেক।
হিসাবটি এসেছে ২০২০ সালে বিএমসি রিউমাটোলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত দেশের প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর এক গবেষণা থেকে। তাতে অংশগ্রহণকারীদের ৩০.৪ শতাংশের পেশি-হাড়-অস্থিসন্ধির কোনো না কোনো সমস্যা পাওয়া যায়: কোমরের নিচের ব্যথা ১৮.৬ শতাংশের, হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিস ৭.৩ শতাংশের (প্রায় ১৪ জনে ১ জন) এবং রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ১.৬ শতাংশের (প্রায় ৬৩ জনে ১ জন)। আক্রান্তদের ২৪.৮ শতাংশের দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা কমেছে, ২৪.৪ শতাংশ আগের ১২ মাসে কাজ হারানোর কথা জানিয়েছেন। এখনকার পরিস্থিতির নির্দিষ্ট হিসাব নেই।
বিশ্বে এই চাপ আরও বড়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে ২০১৯ সালে প্রায় ১৭১ কোটি মানুষ পেশি, হাড় ও অস্থিসন্ধির কোনো না কোনো সমস্যায় ভুগছিলেন। ২০২১ সালের গ্লোবাল বারডেন অব ডিজিজ গবেষণায় সে বছর অস্টিওআর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ছিলেন প্রায় ৬০ কোটি ৬৫ লাখ মানুষ।
ঝুঁকি বাড়ায় বয়স, অতিরিক্ত ওজন, জয়েন্টে পুরোনো আঘাত, বংশগত প্রবণতা ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা। জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনান বলেন, দেশে আর্থ্রাইটিস মূলত বয়সজনিত ক্ষয় ও জেনেটিক বা অটোইমিউন বাতের কারণে হয়; সংক্রমণ থেকেও হতে পারে। এটি পুরোপুরি সারে না, তবে শুরুতেই নিয়মিত ওষুধ ও নিয়ম মেনে নিয়ন্ত্রণে রেখে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা যায়।
অধ্যাপক কেনানের মতে, বয়সজনিত অস্টিওআর্থ্রাইটিসে হাঁটু বাঁকানো বা ব্যবহার কঠিন হয়ে পড়লে হাঁটু প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে; আঙুল বেশি বেঁকে কাজ করতে না পারলে অস্ত্রোপচার লাগতে পারে। দেশ রূপান্তর বলছে, রোগ শনাক্তকরণ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসেবা নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘Achieve Your Dreams’।
ছবি: হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসের এক্স-রে। ছবি: James Heilman, MD / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)