কানাডার কৃষি ও কৃষিখাদ্য বিভাগ (এএএফসি) গমের জাত উন্নয়নের শেষ ধাপের কাজ থেকে সরে আসায় দেশটির গম খাত প্রজননের অর্থায়ন ও পরিচালনার পথ খুঁজতে বিদেশের দিকে তাকাচ্ছে, জানিয়েছে ম্যানিটোবা কো-অপারেটর। এ বছরের শুরুতে গবেষণা কেন্দ্র ও কর্মী ছাঁটাইয়ের পর কাজটি কে করবে, কে টাকা দেবে, সেই প্রশ্ন জোরালো হয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে কানাডিয়ান হুইট রিসার্চ কোয়ালিশন (সিডব্লিউআরসি) দেশের গম প্রজনন ব্যবস্থার পর্যালোচনা প্রকাশ করে, আর মে মাসে পুরো শিল্পের একটি যৌথ স্মারকে নতুন রূপরেখা চাওয়া হয়। সিডব্লিউআরসির চেয়ার জোসেলিন ভেলেস্টুক বলেন, তাঁরা অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের মডেল দেখেছেন। কানাডিয়ান এগ্রি-ফুড পলিসি ইনস্টিটিউটের টাইলার ম্যাককান সংসদীয় কমিটিতে অস্ট্রেলিয়ার মডেল বিবেচনার পরামর্শ দেন।
অস্ট্রেলিয়ায় শস্য গবেষণা ও উন্নয়ন করপোরেশনের অর্থ আসে মূলত কৃষকের লেভি থেকে, যা প্রথম বিক্রির সময় খামারমূল্যের একটি অংশ হিসেবে কাটা হয়, আর সরকার নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত সমপরিমাণ অর্থ দেয়। সেখানে 'এন্ড-পয়েন্ট রয়্যালটি' ব্যবস্থায় কৃষক শস্য বিক্রির সময় জাতের নাম জানান এবং প্রজননকারী রয়্যালটি পান, ফলে কৃষক নিজের বীজ রাখলেও প্রজননকারীর আয় থাকে; সিডস কানাডার লরিন কমিন বিষয়টি তুলে ধরেন।
যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্যের গবেষণা, বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি প্রজননকারীর মিশ্র ব্যবস্থা। ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ের গম প্রজননবিদ কার্ট ম্যাককার্টনির মতে, কৃষকের অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে কানাডাও সে রকম হতে পারে। তবে কমিন সতর্ক করেন, বেসরকারি খাত সহজে লাভ তোলা যায় এমন জায়গায় বিনিয়োগ করে, তাই গমে সরকারি অর্থ লাগবেই। ব্রাজিল আবার সরকারি প্রতিষ্ঠান এমব্রাপাকে কেন্দ্র করেই চলছে, যা এখনো সক্রিয় গম প্রজননকারী।
নিজের বীজ রাখার প্রশ্নটি বিতর্কিত। সাসকহুইটের পরিচালক রব স্টোন বলেন, প্রেইরির কৃষকেরা ইতিমধ্যে গম প্রজননে ৭ কোটি ডলারের বেশি দিয়েছেন; আরও টাকা চাওয়ার আগে সেই অর্থ কতটা কাজে লাগছে তা দেখতে হবে। ভেলেস্টুকের ভাষায়, 'আমরা এখন কানাডার নিজস্ব একটি পথ খুঁজছি।'
প্রতিবেদনটি লিখেছেন ম্যানিটোবা কো-অপারেটরের ডন নরম্যান।
ছবি: ggbaker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Manitoba Co-operator



মন্তব্য
(০)