ভূগর্ভস্থ পানির সংকট আর বাড়তি উৎপাদন খরচে চাপে থাকা বরেন্দ্র অঞ্চলে নতুন আশা দেখাচ্ছে ভার্সেটাইল মাল্টি-ক্রপ প্লান্টার বা ভিএমপি নামের একটি বহুমুখী কৃষিযন্ত্র। দেখতে সাধারণ পাওয়ার টিলারের মতো হলেও এটি দিয়ে জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ ও বীজ বপনসহ একসঙ্গে পাঁচ ধরনের কাজ করা যায়। দিনাজপুর টিভির কৃষি ডেস্ক এ খবর দিয়েছে।
যন্ত্রটি একই সারিতে সরাসরি বীজ বোনে, পরিমাণমতো সার দেয় এবং ওপর দিয়ে নিখুঁতভাবে মাটি ঢেকে দেয়, সবই স্বয়ংক্রিয়ভাবে। এভাবে কম খরচে সোজা লাইনে ধান, সরিষা, ভুট্টা ও বাদাম আবাদ করা যাচ্ছে। সারিতে বোনা হওয়ায় প্রতিটি গাছ পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পায়, দ্রুত বাড়ে, ফলনও ভালো হয়।
প্রচলিত পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপণে জমি বারবার চাষ দিতে হয়, তাতে প্রচুর ডিজেল পোড়ে এবং বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয় বলে জানান গবেষকেরা। স্বল্প চাষের এই সংরক্ষণশীল প্রযুক্তিতে জ্বালানি খরচ কমে, পরিবেশের ক্ষতিও কম হয়।
শাখা প্রকল্পের অধীনে ২০২৪ সাল থেকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও দুর্গাপুরে এই মাঠ গবেষণা চলছে, আন্তর্জাতিক সহযোগী অস্ট্রেলিয়ান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল রিসার্চ (এসিআইএআর)। লক্ষ্য হলো বরেন্দ্রের কমতে থাকা ভূগর্ভস্থ পানি রক্ষা, কম বীজ ও কম শ্রমে আধুনিক চাষ এবং সমলয়ভিত্তিক যন্ত্রনির্ভর সেবা কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
সম্প্রতি গোদাগাড়ীর মাঠ ঘুরে দেখেছেন অস্ট্রেলিয়ার মারডক ও গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রি, বারি এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা ভিএমপির ব্যবহার, সরাসরি বীজ বপন পদ্ধতি এবং ড্রাম সিডারে বোনা ধানের অবস্থা দেখেন এবং চাষিদের সঙ্গে কথা বলেন।
গবেষকদের ভাষ্য, দুই বছরের মাঠ গবেষণায় প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় সরাসরি বীজ বপন ও যন্ত্রনির্ভর চাষে ধানের বৃদ্ধি ও সামগ্রিক উৎপাদন সন্তোষজনক পাওয়া গেছে। এতে চাষির সময়, শ্রম ও উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় তাঁদের আর্থিক সক্ষমতাও বাড়ছে।
সূত্র: দিনাজপুর টিভি



মন্তব্য
(০)