নির্ভুল কৃষির (প্রিসিশন এগ্রিকালচার) সবচেয়ে কাজের হাতিয়ারগুলোর একটি হতে পারে বিনা মূল্যে পাওয়া স্যাটেলাইট ছবি। যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের গবেষণার এ খবর দিয়েছে ফার্মস ডটকম।
সুস্থ আর চাপে থাকা গাছ আলো ভিন্নভাবে প্রতিফলিত করে, তাই মাঠে চোখে পড়ার আগেই সেন্সর ও ছবিতে চাপ ধরা পড়ে। মৃত্তিকা উর্বরতা বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক আনা মোরালেস-ওনা স্মিথ বলেন, 'মাঠের কোনো অংশ খারাপ দেখালে ততক্ষণে হয়তো দেরি হয়ে গেছে। সেন্সর আগেভাগে চাপ ধরতে সাহায্য করে, যাতে ফলন কমার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া যায়।'
তাঁর গবেষণায় বিনা মূল্যের স্যাটেলাইট ছবি, বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট তথ্য, ড্রোনের ছবি ও হাতে ধরা সেন্সর তুলনা করে দেখা গেছে, ভিন্ন ব্যবস্থাগুলো প্রায়ই একই ধরনের ফসলের ধারা চিহ্নিত করে। ছবির মান ও রেজোলিউশনে পার্থক্য থাকলেও মাটি পরীক্ষা ও পাতার নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে বিনা মূল্যের তথ্য দিয়েই কোথায় সার লাগবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
বিনা মূল্যের স্যাটেলাইট ছবির দীর্ঘ সংরক্ষণাগারও আছে। কৃষক কয়েক বছরের ছবি দেখে জমির কোন অংশ বারবার খারাপ করছে তা খুঁজে পেতে পারেন; ড্রোন বা দামি যন্ত্র না থাকলেও এটি কাজে লাগে।
আরেকটি গবেষণায় ড্রোন দিয়ে বালাইনাশক ছিটানো দেখা হচ্ছে। মাটিতে চলা স্প্রেয়ারের সঙ্গে তুলনায় দেখা গেছে, ড্রোন দ্রুত উড়লে স্প্রে কম জায়গায় পড়ে, তবে কম পড়া মানেই রোগ দমন কম নয়, বিশেষ করে যে ওষুধ গাছের ভেতরে ছড়ায়। রিমোট সেন্সিং বিশেষজ্ঞ জেসন ডেভিস বলেন, স্প্রের ফোঁটা কোথায় পড়ল তা জানা যায়, কিন্তু রোগ কতটা দমন হবে তা এ থেকে বলা যায় না। সবচেয়ে ভালো উড়ার গতি, উচ্চতা ও স্প্রে মাত্রা খুঁজছেন গবেষকেরা।
ছবি: SentinelHub / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Farms.com




মন্তব্য
(০)