ধান চাষে ইউরিয়া ছিটিয়ে দেওয়ার বদলে গুটি ইউরিয়া মাটির গভীরে প্রয়োগের প্রযুক্তি দেশজুড়ে ছড়ানো গেলে বছরে প্রায় ৬ লাখ টন ইউরিয়া সার সাশ্রয় হতে পারে। তাতে সার আমদানির খরচ কমতে পারে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। সোমবার (১২ অক্টোবর) দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত এম মনির উদ্দিনের এক নিবন্ধের বরাতে এগ্রিকেয়ার২৪ এ তথ্য জানিয়েছে।
সমস্যাটা প্রচলিত পদ্ধতিতে। জমিতে ইউরিয়া ছিটিয়ে দিলে সারের একটি বড় অংশ গাছের কাজে আসার আগেই নষ্ট হয়ে যায়। গুটি ইউরিয়া চারা রোপণের ৭ থেকে ১০ দিন পর মাটির ৭ থেকে ১০ সেন্টিমিটার গভীরে পুঁতে দেওয়া হয়। সেখান থেকে নাইট্রোজেন ধীরে ধীরে বের হয়, ফলে ধানগাছ দীর্ঘ সময় ধরে পুষ্টি পায় এবং সারের কার্যকারিতা বাড়ে।
নিবন্ধ অনুযায়ী, প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় গুটি ইউরিয়ায় সারের অপচয় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। বারবার সার দেওয়ার দরকার কমে বলে শ্রম ও খরচও বাঁচে। ধানের কুশি ও শীষের সংখ্যা বাড়িয়ে ফলন বাড়াতেও পদ্ধতিটি সহায়ক হতে পারে। দেশে ধান উৎপাদনে প্রতিবছর বিপুল ইউরিয়া লাগে, যার বড় অংশ আমদানি করতে হয়।
তবে প্রযুক্তিটি সারা দেশে ছড়ায়নি। অনেক এলাকায় চাহিদা থাকলেও কৃষকেরা সহজে গুটি ইউরিয়া পান না। অতীতে প্রকল্পের মাধ্যমে এটি সম্প্রসারণের চেষ্টা হলেও যথাযথ তদারকি ও সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতায় ব্যবহার কমে যায় বলে নিবন্ধে বলা হয়েছে।
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাজার এলাকার চিত্র অবশ্য আলাদা। সেখানকার কৃষকেরা দীর্ঘদিন ধরে গুটি ইউরিয়া ব্যবহার করছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতায়, এতে বারবার সার কেনা ও দেওয়ার ঝামেলা কমে, আগাছা দমনে শ্রম ও খরচ কমে এবং ধানের ফলনও ভালো হয়।
নাইট্রোজেন সারের দক্ষ ব্যবহারে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমানোর সুযোগ আছে, তাই পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলাতেও প্রযুক্তিটি কাজে আসতে পারে বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিবন্ধে বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রম, গুটি ইউরিয়ার উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানো, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং সার উৎপাদন ও বিতরণে স্বচ্ছতা ও তদারকির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কৃষকের খরচ কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও পরিবেশবান্ধব ধান চাষের জন্য সরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
ছবি: MdRamjanAliWiki / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪




মন্তব্য
(০)