দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে বাদামি বক্স কাঁকড়ার (brown box crab) একটি ছোট পরীক্ষামূলক মৎস্যক্ষেত্র চলছে পুরোপুরি দড়িহীন ফাঁদ দিয়ে। এই ফাঁদে পানির ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত কোনো খাড়া দড়ি থাকে না, ফলে তিমি জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে না। খবরটি দিয়েছে ফুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট রিপোর্টিং নেটওয়ার্ক (ফার্ন)।
প্রচলিত কাঁকড়া ও লবস্টারের ফাঁদ সমুদ্রের তলায় থাকে, আর মোটা দড়ি দিয়ে ভাসমান বয়ার সঙ্গে বাঁধা থাকে। বিশ্বজুড়ে তিমির আঘাত ও মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ এই দড়ি। দড়িহীন বা "পপ-আপ" সরঞ্জামে ফাঁদ তলায় পড়ে থাকে, জেলেরা তোলার সময় না হওয়া পর্যন্ত ওপরে কোনো দড়ি ওঠে না।
অক্সনার্ড বন্দরের জেলে মাইকি ভোলাস্কি (Mikey Volaski) ব্যবহার করেন সাব সি সনিকস ও গার্ডিয়ান রোপলেস সিস্টেমস নামের দুই প্রতিষ্ঠানের যন্ত্র। দামের কারণেই এগুলো বেছে নেওয়া: প্রতিটি প্রায় ১,৫০০ ডলার, দামি মডেলের পাঁচ ভাগের এক ভাগ। স্মার্টফোনের অ্যাপ থেকে সংকেত দিলে তলার একটি "স্লেড" কমলা রঙের বয়া ছেড়ে দেয়। বয়া দড়ি নিয়ে ভেসে ওঠে, তারপর জেলেরা যন্ত্রে টেনে স্লেড ও পেছনের ফাঁদগুলো তোলেন।
বাদামি বক্স কাঁকড়া ৬০০ মিটার গভীর পর্যন্ত থাকে এবং এ নিয়ে কখনো স্থায়ী বাণিজ্যিক মৎস্যক্ষেত্র গড়ে ওঠেনি। জেলেদের নতুন আয়ের দাবিতে ২০১৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়া একটি ছোট পরীক্ষামূলক মৎস্যক্ষেত্রের অনুমতি দেয়। ২০২১ সালে একটি হাম্পব্যাক তিমি বক্স কাঁকড়ার ফাঁদের দড়িতে জড়িয়ে পড়লে রাজ্য সরকার ক্ষেত্রটি বন্ধ না করে কানেকটিকাটের সামুদ্রিক প্রযুক্তি গবেষক কিম সাউইকির (Kim Sawicki) শরণাপন্ন হয়।
সাউইকি বহু বছর নিউ ইংল্যান্ডের লবস্টার জেলেদের দড়িহীন ফাঁদ পরীক্ষায় রাজি করাতে চেষ্টা করে বাধার মুখে পড়েছিলেন, কারণ অনেকের ভয় ছিল পরীক্ষা থেকেই নতুন নিয়ম আসবে। ২০২৩ সালে প্রশিক্ষণ দেওয়া পশ্চিম উপকূলের ছয় জেলেও অনুমতির প্রক্রিয়া থেকে সরে গেলে তিনি নিজের নামে পরীক্ষামূলক অনুমতি নেন, ২০২৪ সালের জুনে অক্সনার্ডে চলে আসেন এবং দান হিসেবে পাওয়া ৯.৮ মিটারের একটি নৌকার হাল নিজেই ধরেন।
মৎস্য খাতের কয়েকটি সংগঠন এই সরঞ্জামকে অপরীক্ষিত ও ব্যয়বহুল বলেছে, যদিও প্রযুক্তি এগোনোর সঙ্গে দাম কমছে। সমর্থকদের আশা, শুরু থেকেই দড়িহীন ফাঁদে গড়া একটি মৎস্যক্ষেত্র অন্য জেলেদের দেখাবে যে তিমির জন্য নিরাপদ পদ্ধতিতেও লাভ করা যায়।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন ম্যাডেলিন অস্ট্রান্ডার, বায়োগ্রাফিকের সহযোগিতায়।
ছবি: Alaska Fisheries Science Center, NOAA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Food and Environment Reporting Network





মন্তব্য
(০)