পৌরসভার পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ভেঙে পড়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে বিদেশি উৎপাদকদের বিপরীতে নিজেদের সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার পোলট্রি শিল্প। ফেয়ারপ্লে (FairPlay)-এর আয়োজিত ওয়েবিনারে শিল্পের নেতারা এ কথা বলেন বলে জানিয়েছে ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা। বেশির ভাগ পোলট্রি খামার গ্রামাঞ্চলে, আর সমস্যাও সেখানেই সবচেয়ে বেশি।
সাউথ আফ্রিকান পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের ব্রয়লার অর্গানাইজেশনের মহাব্যবস্থাপক ইজাক ব্রাইটেনবাখ (Izaak Breitenbach) বলেন, দেশটি এখন বিশ্বের অন্যতম প্রতিযোগিতা-সক্ষম মুরগি উৎপাদক, যার উৎপাদন খরচ ব্রাজিল ছাড়া সব বড় প্রতিযোগীর চেয়ে কম। তাঁর ভাষায়, "আমরা আরও প্রতিযোগিতা-সক্ষম হচ্ছি, কিন্তু অবকাঠামো এভাবে খারাপ হতে থাকলে আন্তর্জাতিক উৎপাদকদের কাছে জায়গা হারাব। তাতে আমদানি বাড়বে, ক্ষতি হবে দেশীয় শিল্পের।"
বিভ্রাটের ক্ষতি বিভ্রাটের সময়ের চেয়ে অনেক বেশি স্থায়ী। সপ্তাহে ১০ লাখ মুরগি প্রক্রিয়াজাত করে এমন একটি কসাইখানায় পানি বা বিদ্যুৎ না থাকলে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১ লাখ র্যান্ড উৎপাদন ক্ষতি হয়। মাত্র কয়েক ঘণ্টার বিভ্রাটেও পুরো দিনের উৎপাদন নষ্ট হতে পারে, কারণ আবার চালু করতে সময় লাগে। আধুনিক মুরগির ঘরেও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে স্বয়ংক্রিয় পানি ও বিদ্যুৎ লাগে।
ব্রাইটেনবাখ জানান, সবচেয়ে ঝুঁকিতে ছোট উৎপাদকেরা: প্রায় ৮০০ ক্ষুদ্র খামারি দেশের মোট মুরগি উৎপাদনের ৫ থেকে ১০ শতাংশের জোগান দেন। পানির মান, পানির সরবরাহ ও বিদ্যুৎ নিয়ে বড় সমস্যার এলাকা হিসেবে তিনি নর্থ ওয়েস্ট প্রদেশের লিখটেনবার্গ এবং এমপুমালাঙ্গার লেকওয়া স্থানীয় পৌরসভার নাম বলেন।
ফেয়ারপ্লের প্রতিষ্ঠাতা ফ্রাঁসোয়া বেয়ার্ড (Francois Baird) বলেন, অবকাঠামো এখন খাদ্যের মতোই গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন উপকরণ। ব্রয়লার খামারের ২৪ শতাংশ নর্থ ওয়েস্টে, ২০ শতাংশ এমপুমালাঙ্গায়, ১৭ শতাংশ ওয়েস্টার্ন কেপে এবং ১২ শতাংশ গাউতেংয়ে। কোথায় অবকাঠামোয় বিনিয়োগ সবচেয়ে জরুরি, তা বুঝতে পোলট্রি উৎপাদন করিডোরগুলোর মানচিত্র তৈরির আহ্বান জানান তিনি। ব্রাইটেনবাখ প্রশ্ন তোলেন, পোলট্রি সেক্টর মাস্টার প্ল্যানে পৌরসভাগুলো কেন স্বাক্ষরকারী নয়; তিনি পৌরসভা ও পোলট্রি ব্যবসার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা, দক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগ এবং অবকাঠামো ব্যয়ে জবাবদিহি চান।
ঝুঁকি শুধু মুরগিতে সীমিত নয়। ব্রাইটেনবাখের তথ্যে, এই শিল্পে ১ লাখ ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান, আর উৎপাদন বাড়লে ভুট্টা ও সয়াবিনের চাহিদা বাড়বে, গ্রামে কাজ তৈরি হবে। প্রতিবেদনটি করেছেন লিন্ডি বোথা।
ছবি: দক্ষিণ আফ্রিকার মাগালিসবার্গের কাছে একটি পোলট্রি খামার, Olga Ernst / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Farmers Weekly South Africa





মন্তব্য
(০)