কেনিয়ার খামারিরা প্রতি মাসে উন্নত জাতের দেশি মুরগির প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার এক দিন বয়সী বাচ্চা চান, কিন্তু জোগান মেলে তার চার ভাগের এক ভাগ, মাসে মোটামুটি ৩০ হাজার। আন্তর্জাতিক প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইএলআরআই) এ তথ্য জানিয়েছে। কেনিয়া কৃষি ও প্রাণিসম্পদ গবেষণা সংস্থা (কালরো) কেসি১, কেসি২ ও কেসি৩ নামে তিনটি জনপ্রিয় উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছে, তবু খামারির হাতে যথেষ্ট বাচ্চা পৌঁছানোই এখন বড় সমস্যা।
কালরো এতদিন মূলত নিজেই বাচ্চা উৎপাদন ও বিতরণ করেছে, আর আগে অন্যদের দিয়ে বাচ্চা বাড়ানোর চেষ্টায় মান নিয়ন্ত্রণের সমস্যা দেখা দিয়েছিল। আইএলআরআইয়ের সম্প্রসারণ বিশেষজ্ঞ ইজুদাই জাসাদা বলেন, "খুব ভালো উদ্ভাবন, খুব ভালো জাত, টিকা বা খাদ্য থাকতে পারে, কিন্তু তা যদি প্রভাব ফেলতে না পারে, তাহলে সেটিকে সফল উদ্ভাবন বলা যায় না।"
২০২৬ সালের মে মাসে আইএলআরআই, কালরো এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারেরা বাচ্চার ঘাটতি নিয়ে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তে আসে, শুধু বেশি মুরগি উৎপাদন নয়, কাজ ভাগ করে নেওয়াই সমাধান। কালরো জাতের জিনগত বিশুদ্ধতা ও মান রক্ষা করবে, আর বেসরকারি হ্যাচারি, বাচ্চা বর্ধনকারী ও মাদার ইউনিট উৎপাদন বাড়াবে। এর পেছনে থাকবে সনদ ও উৎস শনাক্তের ব্যবস্থা, কাউন্টি সরকার, সমবায়, খাদ্য সরবরাহকারী, ঋণদাতা ও সম্প্রসারণ সেবা। জাসাদা একে বলেন 'নিয়ন্ত্রিত বিকেন্দ্রীকরণ'। তাঁর মতে, উদ্ভাবন তৈরির সময়েই সরবরাহের মডেল, অর্থায়ন ও মান নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করা উচিত, পরে নয়।
কিগালিতে আফ্রিকা ফুড সিস্টেমস ফোরাম ২০২৬-এ প্রাণিসম্পদ নিয়ে দ্বিতীয় মন্ত্রী পর্যায়ের বিশেষ আলোচনায়ও একই কথা উঠে আসে। ফুড প্ল্যানেট প্রাইজের সহসভাপতি অধ্যাপক লিন্ডিওয়ে মাজেলে সিবান্দা বলেন, "আফ্রিকার প্রাণিসম্পদের অগ্রাধিকার এখন আর স্বীকৃতি পাওয়া নয়, ফল পৌঁছে দেওয়া।"
পশুস্বাস্থ্যেও একই ফাঁক। পূর্ব আফ্রিকায় টিকাসহ পশুস্বাস্থ্য পণ্য তৈরি ও বিতরণকারী সিকেএল আফ্রিকার গ্রুপ প্রধান নির্বাহী মুচাই কুনিহা বলেন, একটি পণ্য পশুর শরীরে পৌঁছানোর আগে নিয়ন্ত্রক অনুমোদন, নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার প্রমাণ, অর্থায়ন ও বিতরণব্যবস্থা লাগে। অস্থায়ী টিকাদান অভিযানে খামারির স্থায়ী সমস্যা মেটে না। কেনিয়ার বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থায় এক কাউন্টি টিকা দেয়, পাশেরটি দেয় না, অথচ রোগ কাউন্টির সীমানা মানে না, বলেন তিনি।
খামারির ধারণাও গুরুত্বপূর্ণ। কুনিহা মনে করিয়ে দেন, ব্যথানাশক মেশানো একটি অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন দেওয়ার পর গরু আর লাথি না মারায় কিছু পশুপালক ধরে নিয়েছিলেন ওষুধটি কাজই করছে না। আইএলআরআই বলছে, তাদের ২০২৪-২০৩০ কৌশল এমনভাবে সাজানো, যাতে প্রাণিসম্পদের সমাধান তৈরির সঙ্গে সঙ্গে তা কাজে লাগানোর নীতি, অংশীদারত্ব ও বিনিয়োগও তৈরি হয়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন ওয়াঙ্গারি মারু।
ছবি: কেনিয়ার গিলগিলের কাছে নিজের খামারে মুরগিকে খাবার দিচ্ছেন ফ্রান্সিস কিমানি কিবোগি, Kate Holt / AusAID / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: ILRI





মন্তব্য
(০)