গত এক সপ্তাহে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে ১১টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ); এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১১টি মামলাও হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) সংস্থাটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
১১ থেকে ১৭ অক্টোবর অভিযান, মোবাইল কোর্ট এবং বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে এসব জরিমানা আদায় হয়। ঢাকা মহানগরে সাতটি প্রতিষ্ঠানে অভিযানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি, নিবন্ধন ছাড়া প্রতিষ্ঠান চালানো, ফ্রিজে লেবেলবিহীন মাছ-মাংস রাখা এবং ট্রেড লাইসেন্স, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যসনদ ও পেস্ট কন্ট্রোলের প্রমাণ দেখাতে না পারার মতো অপরাধ পাওয়া যায়; চারটি প্রতিষ্ঠানকে চার লাখ টাকা জরিমানা ও পাঁচটির বিরুদ্ধে মামলা হয়।
ফেনী, পাবনা, বরিশাল, নরসিংদী, সুনামগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে ছয়টি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্টে লেবেলবিহীন পণ্য, কেনার চালান দেখাতে না পারা, অননুমোদিত রাসায়নিক রং, উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা ও ছারপোকা, খোলা অবস্থায় নন-ফুডগ্রেড পাত্রে খাবার রাখা এবং নোংরা পরিবেশে উৎপাদনের মতো অনিয়ম মেলে। এসব প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে আট লাখ টাকা জরিমানা ও ছয়টি মামলা করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে নাটোরের মৌচাক বেকারির ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে: লেবেলবিহীন ও বাসি খাদ্যপণ্য পাওয়ায় নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩২(ক) ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন নাটোর বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইব্রাহিম আলী, অনাদায়ে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড।
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সপ্তাহজুড়ে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ ২১৪টি খাদ্যস্থাপনায় তদারকি করেছে বিএফএসএ। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক প্রচার এবং সামাজিক মাধ্যমে ছবি, রিলস ও ভিডিওতে সচেতনতামূলক বার্তাও প্রচার করা হচ্ছে।
বিএফএসএর চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিয়মিত তদারকি, আইনানুগ ব্যবস্থা, মোবাইল কোর্ট, খাদ্য নমুনা পরীক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে; উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪




মন্তব্য
(০)