ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যে চিকিৎসা নিতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আসছেন নানা এলাকার রোগী। অথচ হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা পানি, ময়লা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ মশার বংশবিস্তার ও জীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে বাংলা ট্রিবিউনের সরেজমিন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বহির্বিভাগ দিয়ে ঢুকলেই খোলা ড্রেন ও গর্তে পানি জমে থাকতে দেখা যায়; কোথাও ডাবের খোসায়, কোথাও চায়ের কাপে, কোথাও এসি থেকে ঝরা পানিতে। শিশু ওয়ার্ডের পাশে জমা পানি থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, মশাও দেখা গেছে। একটি ভবনের তৃতীয় তলায় ওয়াশরুমের পাইপ ফুটো হয়ে টয়লেটের ময়লা বেরিয়ে চলাচলের পথে ছড়িয়ে পড়ছে।
কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, হাসপাতালে এডিস মশার প্রজনন হলে ঝুঁকি আরও বেশি, কারণ সেখানে অনেক রোগী থাকেন। এডিস স্বচ্ছ ও অপরিষ্কার দুই ধরনের জমা পানিতেই ডিম পাড়ে, চলমান পানিতে নয়; জমা পানিতে তিন দিনে লার্ভা হতে পারে, ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ মশা হতে লাগে প্রায় সাত দিন। প্রতিটি হাসপাতাল চত্বর সপ্তাহে অন্তত এক দিন ঘুরে দেখে জমা পানি সরানোর পরামর্শ দেন তিনি।
ডেঙ্গু আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে আসা মোছাম্মৎ আছিয়া বলেন, সুস্থ হওয়ার আশায় এসে এমন পরিবেশে আরও অসুস্থ হওয়ার ভয় থাকে; অন্য রোগের চিকিৎসা নিতে এসে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন। স্ত্রীর সঙ্গে থাকা মোহাম্মদ আরিফ জানান, দুই দিন ধরে ফুটো পাইপ দিয়ে ময়লা বের হচ্ছে, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জানানোর পরও ব্যবস্থা হয়নি।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ধারণক্ষমতার চেয়ে রোগী অনেক বেশি, সঙ্গে স্বজনেরাও থাকেন; এত মানুষের চাপে পরিচ্ছন্নতা ধরে রাখা কঠিন। তবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে। পাইপের সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হবে এবং বিভিন্ন জায়গার সমস্যা চিহ্নিত করে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
প্রতিবেদন: ছালমা আক্তার সারমিন, বাংলা ট্রিবিউন
ছবি: A.M.R. / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.5)
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন




মন্তব্য
(০)