বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) তাদের মহামারি ও সংক্রামক রোগ গোয়েন্দা কেন্দ্রের জন্য পাঁচ বছরের কৌশল চালু করেছে, যার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিটি দেশ যেন নতুন কোনো স্বাস্থ্য হুমকি দেখা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা শনাক্ত ও বুঝতে পারে, জানিয়েছে ডাউন টু আর্থ। ১২ অক্টোবর বার্লিনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের উদ্বোধনে কৌশলটি ঘোষণা করা হয়।
কোভিড-১৯ মহামারিতে নতুন হুমকি শনাক্ত ও মোকাবিলায় দেশগুলোর ঘাটতি স্পষ্ট হওয়ার পর ২০২১ সালে জার্মান সরকারের সহায়তায় বার্লিনে কেন্দ্রটি গড়া হয়। ডব্লিউএইচওর হিসাবে কেন্দ্রটি ১৬০টি সদস্য দেশ, ১৯০টি অংশীদার সংস্থা এবং হাজারো বিজ্ঞানী ও নীতিনির্ধারকের সঙ্গে কাজ করেছে: মহামারির হুমকি শনাক্ত, জীবাণুর জিন বিশ্লেষণ এবং দ্রুত পদক্ষেপে সহায়তা। মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়েসুস একে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ বলেছেন।
কৌশলের পাঁচটি অগ্রাধিকার। 'এপিডেমিক ইন্টেলিজেন্স ফ্রম ওপেন সোর্সেস' কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজারো উন্মুক্ত উৎস ঘেঁটে সম্ভাব্য হুমকির সংকেত খোঁজে, ব্যবহার করছে ১২৫টির বেশি সদস্য দেশ। আন্তর্জাতিক জীবাণু নজরদারি নেটওয়ার্ক দেশগুলোকে জীবাণুর জিন বিশ্লেষণে সক্ষম করে পরীক্ষা, চিকিৎসা ও টিকা তৈরির গতি বাড়ায়; আর 'কোলাবোরেটরি' যুক্ত করেছে মডেলিং ও তথ্যবিজ্ঞানের ২,০০০-এর বেশি বিশেষজ্ঞকে, নতুন হুমকিতে যাঁদের ডাকা যায়।
৮৩টির বেশি দেশে চলমান যৌথ নজরদারি উদ্যোগ ওয়ান হেলথ পদ্ধতিতে, অর্থাৎ মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্যকে একসঙ্গে দেখে, জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে হুমকি শনাক্তে সহায়তা করছে। একটি নতুন উদ্যোগ স্বাস্থ্যতথ্য ভাগাভাগি ও বিশ্লেষণের নিরাপদ ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়বে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহারে সহায়তা দেবে।
ডব্লিউএইচও বলেছে, লক্ষ্য অর্জনে টানা বিনিয়োগ, আস্থাশীল অংশীদারত্ব এবং খাত ও সীমানা পেরিয়ে সহযোগিতা লাগবে।
ছবি: Yann Forget / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)