নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় গ্রামের মানুষের কাছে সরকারি চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার জন্য থাকা পাঁচটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কোনোটিতেই এখন চিকিৎসক নেই। চারটির পদায়িত চিকিৎসক অন্য হাসপাতালে সংযুক্তি বা ডেপুটেশনে আছেন, আর একটির চিকিৎসক চার বছর ধরে ছুটি ছাড়া অনুপস্থিত। কয়েকটি কেন্দ্রে রোগী দেখছেন ফার্মাসিস্ট; চিকিৎসকসহ সব পদ শূন্য থাকায় কালাপাহাড়িয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র বন্ধ পড়ে আছে, জানিয়েছে ইত্তেফাক।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাতগ্রাম উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ২০১৯ সালের এপ্রিলে যোগ দিলেও ২০২২ সাল থেকে কর্মস্থলে নেই, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তিনি দেশের বাইরে। কেন্দ্রটি চলছে একজন মিডওয়াইফ ও একজন ফার্মাসিস্ট দিয়ে। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বিষয়টি জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একাধিকবার চিঠি দিলেও ফল হয়নি।
ব্রাহ্মন্দী কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ২০১৭ সাল থেকে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে সংযুক্ত, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারকেও অন্য কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। হাইজাদীর মেডিকেল অফিসার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংযুক্ত, সেখানে একমাত্র ভরসা একজন ফার্মাসিস্ট। চৈতনকান্দার চিকিৎসক কুর্মিটোলা হাসপাতালে সংযুক্ত, আর কালাপাহাড়িয়ার চিকিৎসক মুগদা হাসপাতালে; ওই কেন্দ্রের একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আট বছর ধরে ঢাকায় সংযুক্ত।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, কমপ্লেক্সে পদায়িত অনেক চিকিৎসকও নিজেদের মধ্যে ভাগ করে সপ্তাহে দুই-তিন দিনের বেশি আসেন না। এ সুযোগে শূন্যস্থান দখল করছে বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান, আর উপজেলার মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরিফ ভূঁইয়া জানান, অধিদপ্তরের নির্দেশেই উপস্বাস্থ্য ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকেরা উপজেলায় সংযুক্ত আছেন। দীর্ঘদিন অনুপস্থিত চিকিৎসকের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে, কিন্তু সেখান থেকে ব্যবস্থা না আসায় বিষয়টি ঝুলে আছে।
প্রতিবেদনটি ইত্তেফাকের আড়াইহাজার সংবাদদাতার।
সূত্র: ইত্তেফাক




মন্তব্য
(০)