ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের বীরচন্দ্রপুর গ্রামে দুই বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে কালো ধান বা ব্ল্যাক রাইস চাষ করেছেন কৃষক সায়মন মোল্লা। সবুজ ধানখেতের মাঝে কালচে শীষ এখন বাতাসে দুলছে, প্রচলিত সোনালি ধানের পাশে নতুন এ ধান দেখতে আসছেন এলাকার মানুষও।
সায়মন জানান, ছোটবেলা থেকেই ধান চাষে আগ্রহ, দীর্ঘদিন প্রচলিত পদ্ধতিতে আবাদ করছেন। সম্প্রতি মোবাইল ফোনে ইউটিউব দেখে কালো ধানের কথা জানতে পারেন। এ মৌসুমে প্রতি কেজি ৫০০ টাকা দরে বীজ সংগ্রহ করে বীজতলা, জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণ করেছেন। এখন জমিতে শীষ বেরিয়েছে।
তিনি বিঘাপ্রতি ১৬ থেকে ১৮ মণ ধান পাওয়ার আশা করছেন। বাসসকে তিনি বলেন, ফলন ভালো হলে এবং ন্যায্য দাম পাওয়া গেলে আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে কালো ধান চাষ করবেন। তাঁর এ উদ্যোগে আশপাশের কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদ রানা বলেন, ব্ল্যাক রাইস পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ একটি বিশেষ জাতের ধান। উপজেলায় মৌসুমি ধানের পাশাপাশি সীমিত জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এর আবাদ হয়েছে, ভালো ফলনের জন্য কৃষককে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কালো চালের রং গাঢ় বেগুনি থেকে কালো, এতে অ্যান্থোসায়ানিন নামের প্রাকৃতিক রঞ্জক রয়েছে। সাধারণ চালের চেয়ে দাম অনেক বেশি; বাজারে কালো চাল কেজিপ্রতি ২৫০ থেকে ১,০০০ টাকায় বিক্রি হয়। দেশের কুমিল্লা, নওগাঁ, চট্টগ্রাম ও ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন জেলায় ৫ থেকে ৭ প্রজাতির কালো ধানের চাষ হচ্ছে এবং আবাদের এলাকা প্রতিবছর বাড়ছে।
প্রতিবেদনটি বাসসের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি মো. শফিকুল ইসলামের।
ছবি: Koba-chan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.5)
সূত্র: বাসস





মন্তব্য
(০)