ওজন কমলে শরীরের চর্বি ঘাম হয়ে ঝরে, নাকি মলমূত্রের সঙ্গে বেরিয়ে যায়? ইত্তেফাকের লাইফস্টাইল পাতায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে গবেষকদের বরাতে বলা হয়েছে, উত্তরটি অনেকের ধারণার বাইরে: বেশির ভাগ চর্বি শরীর ছাড়ে ফুসফুস দিয়ে, নিশ্বাসের সঙ্গে।
প্রক্রিয়াটা শুরু হয় খাবার থেকে। চর্বিযুক্ত খাবার পরিপাকতন্ত্রে ভেঙে ফ্যাটি অ্যাসিড হয়। শরীর এর একাংশ কোষ তৈরি, হরমোন নিয়ন্ত্রণ ও অঙ্গ সুরক্ষায় ব্যবহার করে, বাড়তি অংশ ট্রাইগ্লিসারাইড হিসেবে ফ্যাট সেলে জমায়, সাধারণত চামড়ার নিচে ও অঙ্গের চারপাশে।
ডায়েট বা শরীরচর্চায় যখন ক্যালরির ঘাটতি তৈরি হয়, হরমোন ও স্নায়ুর সংকেতে ফ্যাট সেলগুলো জমানো চর্বি ভাঙতে শুরু করে; এর নাম লাইপোলাইসিস। ফ্যাটি অ্যাসিড তখন কোষের শক্তিকেন্দ্র মাইটোকন্ড্রিয়ায় গিয়ে বিটা-অক্সিডেশনে শক্তিতে রূপ নেয়, আর শেষ উপজাত হিসেবে তৈরি হয় কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি।
গবেষকদের হিসাবে, হারানো চর্বির প্রায় ৮৪ শতাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইড হয়ে শ্বাস ছাড়ার সময় বাতাসে মিশে যায়। বাকি প্রায় ১৬ শতাংশ পানি হয়ে ঘাম, প্রস্রাব ও অন্যান্য শারীরিক তরলের মাধ্যমে বের হয়।
তাহলে কি দ্রুত জোরে শ্বাস নিলে মেদ কমবে? প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, না। শ্বাস ছাড়া হলো পোড়া চর্বির বর্জ্য বের করার পথ, চর্বি পোড়ানোর কারণ নয়। জমানো চর্বিতে হাত দিতে শরীরকে বাধ্য করার একমাত্র উপায় নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম আর পরিমিত খাবারে ক্যালরির ঘাটতি বজায় রাখা।
প্রতিবেদনটি ইত্তেফাকের লাইফস্টাইল পাতায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে।
ছবি: Bujar I Gashi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ইত্তেফাক





মন্তব্য
(০)