গত এক মাসে রংপুর, দিনাজপুর ও গাইবান্ধায় অন্তত ৫৩ জন অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন, যাঁদের ৩৭ জনই গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের। রংপুর বিভাগে অ্যানথ্রাক্সের প্রধান হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এই উপজেলা। অসুস্থ গরু জবাই ও তার মাংস বিতরণ থেকেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। গত বছরও একই সময়ে এসব এলাকায় প্রাদুর্ভাব হয়েছিল।
৯ সেপ্টেম্বর সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ ইউনিয়নের বাছহাটি গ্রামে একটি অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস ১০০টি পরিবারে বিতরণ করা হয়। দুই সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ায় সর্বানন্দ, তারাপুর, কাঁচিবাড়ি, সোনারায় ও রামজীবন ইউনিয়নে। ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৯ জন নারী, ১৪ জন পুরুষ ও ৪ শিশু চিকিৎসা নিয়েছেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কে এম ইফতেখারুল ইসলাম জানান, ২১ সেপ্টেম্বর নেওয়া মাংসের দুটি নমুনায় অ্যানথ্রাক্স পজিটিভ এসেছে।
জবাইয়ে হাত লাগালেও সংক্রমণ হতে পারে। বাছহাটির শফিক আলম বলেন, তিনি মাংস খাননি, শুধু জবাইয়ে সাহায্য করেছিলেন; রক্ত হাতে লাগায় দুই হাতেই ফোসকা পড়েছে। রংপুর জেলায় আক্রান্ত ১৩ জন, যাঁরা পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দশ দিন চিকিৎসার পর সুস্থ হয়েছেন; আইসিডিডিআর,বির দল নমুনা পরীক্ষা করে অ্যানথ্রাক্স নিশ্চিত করেছে। গরুটি সুন্দরগঞ্জ থেকে কেনা হয়েছিল। দিনাজপুরে গৃহপালিত গরুর মাংস খেয়ে একজন সেনাসদস্য ও তাঁর মা-বাবা আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন।
সুন্দরগঞ্জে প্রায় ২ লাখ ৫৪ হাজার গবাদিপশু রয়েছে। গত বছরের অক্টোবরের প্রাদুর্ভাবের পর ১৫টি ইউনিয়নে রিং টিকা কার্যক্রমে এ পর্যন্ত ১৯ হাজার গরুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী আক্রান্ত এলাকার তিন কিলোমিটারের মধ্যে শতভাগ গবাদিপশুর টিকা বাধ্যতামূলক। হাতে ১১ হাজার ডোজ টিকা মজুত আছে বলে জানান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।
আইসিডিডিআর,বি ও আইইডিসিআরের গবেষকেরা বলছেন, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ থেকেও অ্যানথ্রাক্স ছড়াতে পারে; গত বছর অসুস্থ ছাগলের মাংস রান্না ও খাওয়ার পর সুন্দরগঞ্জের এক নারী মারা যান। গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. জোবায়দুল কবির জানান, এ অঞ্চলে প্রাদুর্ভাব ঐতিহাসিকভাবে গরু থেকে ছড়ায় বলে গরুকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, অন্য প্রাণী পর্যবেক্ষণে আছে। আইইডিসিআর অসুস্থ পশু জবাইয়ের আগে পশুচিকিৎসকের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করার ওপর জোর দিয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, সঠিকভাবে ওষুধ খেলে অ্যানথ্রাক্স সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। "অসুস্থ পশু জবাই না করা, মাংস ভালোভাবে রান্না করা এবং গবাদিপশুর টিকা নিশ্চিত করা এই রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায়," বলেন তিনি। খামারির জন্য বার্তা স্পষ্ট: অসুস্থ পশু জবাই বা বিক্রি নয়, আগে প্রাণিসম্পদ দপ্তরে খবর দিন।
ছবি: Khaleq / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: সারাবাংলা





মন্তব্য
(০)