বুড়িগঙ্গার পানিতে ও তলদেশে বছরের পর বছর জমছে প্লাস্টিক, দূষিত হচ্ছে মাছ ও জলজ পরিবেশ, আর ক্ষুদ্র কণা ঢুকছে খাদ্যশৃঙ্খলে। দৈনিক বাংলার বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, নদীতে ফেলা বোতল ও প্যাকেটের দূষণ শেষ পর্যন্ত মানুষের খাবারে পৌঁছাচ্ছে।
স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার জানান, বুড়িগঙ্গার মাটির ১৫ ফুট গভীরেও প্লাস্টিক মিলেছে; কিছু বর্জ্যের লেবেল দেখে বোঝা গেছে, সেগুলো ১৫ থেকে ১৭ বছর আগে ফেলা, অথচ দেখতে প্রায় নতুন। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া তাঁদের গবেষণা চলছে। বোতল ও খাবারের মোড়কে ব্যবহৃত পিইটি প্লাস্টিক ক্ষয় হতে আনুমানিক ৪৫০ বছর লাগতে পারে, এর মধ্যে ভেঙে তৈরি হয় মাইক্রোপ্লাস্টিক।
উৎপাদনের সঙ্গে বাড়ছে বর্জ্যও। ইনভেস্ট বাংলাদেশের তথ্যে দেশে ছয় হাজারের বেশি প্লাস্টিক কারখানা, কর্মী প্রায় ১৫ লাখ, প্রবৃদ্ধি প্রায় ২০ শতাংশ। এসডোর ২০২২ সালের গবেষণায় দেশে দিনে প্রায় তিন হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়, ঢাকায় দিনে প্রায় ১৪ লাখ পলিথিন ব্যাগ একবার ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া হয়। বিশ্বব্যাংকের ২০২০ সালের হিসাবে বছরে বর্জ্য প্রায় ৯ লাখ ৭৭ হাজার টন, আর ঢাকায় মাত্র ৩৭ শতাংশ পুনর্ব্যবহৃত হয়।
২০২৫ সালের একটি গবেষণায় বঙ্গোপসাগরের মাছের তুলনায় বুড়িগঙ্গার মাছে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। ২০২৩ সালের আরেক গবেষণায় নদীর মাছ, কাঁকড়া ও তলানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সঙ্গে ক্রোমিয়াম, সিসা, আর্সেনিক ও ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতুও মিলেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ড. শফি মোহাম্মদ তারেক বলেন, মাছ, লবণ, তেল ও চিনির মতো খাদ্যপণ্যেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যাচ্ছে। মানবস্বাস্থ্যে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে গবেষণা চলছে, তবে প্রজনন, পরিপাক ও শ্বাসতন্ত্রের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় উদ্বেগ আছে।
দূষণ পৌঁছেছে সুন্দরবনেও। ২০২৫ সালের এক গবেষণায় সেখানকার পানিতে লিটারে গড়ে ২৩.২৫টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে, প্রধান দূষক পিইটি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২০২৫ সালের তথ্যে দেশে নদী ১ হাজার ৪১৫টি, মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২৪ হাজার ১৪০ কিলোমিটার। শহরে পলিথিন ও প্যাকেট নালা আটকে পানি নিষ্কাশনেও বাধা দিচ্ছে।
প্রতিবেদনটি দৈনিক বাংলার বিশেষ প্রতিবেদকের প্রতিবেদন অবলম্বনে।
ছবি: Sarah.1001022 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: দৈনিক বাংলা




মন্তব্য
(০)