চট্টগ্রামে হামের সংক্রমণ কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। মার্চের মাঝামাঝি থেকে মহানগর থেকে উপজেলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত ৯ হাজার ছাড়িয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৮ হাজার ৮৭৮ জন সুস্থ হয়ে ফিরেছেন, মারা গেছেন ২৯ জন, যার ২১ জনই শিশু। চিকিৎসকেরা বলছেন, কিটের অভাবে উপসর্গ নিয়ে ভর্তি বেশির ভাগ রোগীর নমুনা পরীক্ষাই হচ্ছে না।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক সেখ ফজলে রাব্বি শনিবার বলেন, পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, উপসর্গ নিয়ে এখনো অনেকে ভর্তি হচ্ছেন এবং বিষয়টি নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা জানান, হাম ব্লকে ২৯৬টি শিশু চিকিৎসাধীন, ১৫টি আইসিইউতে। শিশুর পাশাপাশি ১৪ থেকে ২৪ বছর বয়সী ছয়জন উপসর্গ নিয়ে ভর্তি; রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে ২৫ বছরের এক ইন্টার্ন চিকিৎসকও আক্রান্ত হয়েছিলেন।
চমেকে বিশেষায়িত হাম ইউনিটে শয্যা ৫০টি, পিএসইউ ওয়ার্ডে ১০টি আর আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১৬টি। সব জায়গায় ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি রোগী; এক শয্যায় দুই শিশু রেখে চিকিৎসা চলছে, অনেকে মেঝেতে। হালিশহরের ফারজানা আক্তার জানান, তাঁর শিশুটি ২৮ দিন ধরে হাসপাতালের মেঝেতে। শয্যাসংকটে কিছু হামের রোগীকে সাধারণ ওয়ার্ডে রাখায় অন্য শিশুদের মধ্যে ছড়ানোর ঝুঁকিও বাড়ছে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের আলাদা চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তবে রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় বাড়তি জরুরি প্রস্তুতি লাগছে, আর শয্যা ও জায়গার সংকটে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সংক্রমণ ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার সার্ভিল্যান্স অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন মেডিকেল অফিসার খাদিজা আহমেদ জানান, নগরের জালালাবাদ, চান্দগাঁও, উত্তর পাহাড়তলী, লালখান বাজার, পূর্ব বাকলিয়া, আলকরণ, দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর, দক্ষিণ হালিশহর ও উত্তর পতেঙ্গা, এই ৯টি ওয়ার্ড হটস্পট। সাতকানিয়া, আনোয়ারা, বাঁশখালী, পটিয়া, হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, সীতাকুণ্ডসহ কয়েকটি উপজেলা এবং কক্সবাজার, কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও চাঁদপুরও হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত। তাঁর ভাষায়, ডব্লিউএইচওর নির্দেশিকা অনুযায়ী বাংলাদেশে এখন হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি চলছে।
প্রতিবেদনটি ঢাকা মেইলের চট্টগ্রাম প্রতিনিধির প্রতিবেদন অবলম্বনে।
ছবি: Press Information Department / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ঢাকা মেইল





মন্তব্য
(০)