মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আর কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য অনিশ্চয়তার কারণে প্রধান তিন ফসল-পুষ্টি, নাইট্রোজেন, ফসফেট ও পটাশ সারের সরবরাহ কমতে ও দাম বাড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের জন্য। মিশিগান এজি টুডেকে এ কথা বলেছেন স্টোনএক্সের (StoneX) সার বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট জশ লিনভিল (Josh Linville)।
মূল সংকটস্থল হরমুজ প্রণালী। লিনভিল বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় তিন ইউরিয়া রপ্তানিকারক ইরান, কাতার ও সৌদি আরব হরমুজ প্রণালীর ভেতরের দিকে; এই তিন দেশ অ্যানহাইড্রাস অ্যামোনিয়ারও বড় রপ্তানিকারক, আর সৌদি আরব ফসফেটেরও বড় রপ্তানিকারক। সপ্তাহান্তের হামলার পর পরিস্থিতি শিগগির ভালো হবে বলে মনে হচ্ছে না। বিঘ্নের প্রভাব জ্বালানি বাজারেও পড়ছে: নাইট্রোজেন সারের প্রধান কাঁচামাল প্রাকৃতিক গ্যাস, আর গ্যাসের দাম বাড়লে অঞ্চলের বাইরেও কারখানার উৎপাদন কমে বা বন্ধ হয়; ইউরোপে কিছু উৎপাদন কমার কারণ এটাই।
ফসফেটের সমস্যা আরও জটিল। ফসফেট সার তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল সালফার, আর লিনভিলের হিসাবে বিশ্বের বাণিজ্যযোগ্য সালফারের প্রায় অর্ধেক আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। তা না পেলে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য দেশের কারখানাও উৎপাদন কমায়, কারণ যথেষ্ট সালফার নেই বা দাম এত বেশি যে উৎপাদন লাভজনক নয়। ফলে দামের নিম্নসীমা উঁচুতেই থাকে: কৃষকেরা কম কিনলেও দাম খুব একটা কমে না, আর উৎপাদন খরচের নিচে নামলে আরও কারখানা বন্ধ হয়।
পটাশের প্রশ্নটা কানাডাকে ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্র নিজে সামান্য পটাশ উৎপাদন করে এবং আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশ আসে কানাডা থেকে; তাই যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি (ইউএসএমসিএ) নিয়ে আলোচনা দুই দেশের সার ক্রেতাদের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। লিনভিল বলেন, দুই পক্ষের এত হুমকি-ধমকির পরও এখন পর্যন্ত পটাশের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ আসেনি; তবে বাণিজ্য চুক্তি ভেঙে পড়লে সীমান্তের দুই পাশই পটাশকে নিশানা করবে বলে তাঁর আশঙ্কা।
কৃষকদের জন্য এর মানে হলো, পরের সার প্রয়োগ মৌসুমের আগে ফসলের দাম, নগদ প্রবাহ ও প্রত্যাশিত আয়ের সঙ্গে সার কেনার হিসাব মেলাতে গিয়ে অনিশ্চয়তা চলতেই থাকবে।
ছবি: Rasbak / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: মিশিগান এজি টুডে





মন্তব্য
(০)