শূকরের প্রাণঘাতী রোগ আফ্রিকান সোয়াইন ফিভারের (এএসএফ) প্রাদুর্ভাব আগাম বোঝা ও ঠেকানোর একটি আন্তর্জাতিক কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। পিগ ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, এএসএফ নেক্সাস (ASF Nexus) নামের প্রকল্পটির নজর যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। মাঠের কাজ শুরু হবে মালয়েশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের সারাওয়াকে, পরে তা অঞ্চলজুড়ে ছড়াতে পারে।
মানুষ, প্রাণী ও উদ্ভিদের স্বাস্থ্যের জৈব হুমকি নিয়ে ১৮টি প্রকল্পে যুক্তরাজ্য সরকার ও ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশনের (ইউকেআরআই) ৫ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ডের বিনিয়োগের একটি অংশ এই প্রকল্প।
নেতৃত্বে আছেন শেফিল্ডের স্কুল অব মেডিসিন অ্যান্ড পপুলেশন হেলথের গাণিতিক মডেলিং ও রোগতত্ত্বের অধ্যাপক পিট ডড (Pete Dodd)। জীববিজ্ঞান, গণিত, অর্থনীতি ও আচরণবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞরা মিলে খুঁজবেন কেন প্রাদুর্ভাব হয়, রোগ কীভাবে ছড়াতে পারে তার মডেল তৈরি করবেন এবং নানা প্রতিরোধ ব্যবস্থার অর্থনৈতিক প্রভাব মাপবেন। স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে মিলে সবার জন্য উন্মুক্ত পূর্বাভাসের টুল, খামারিদের জন্য নির্দেশনা আর নীতিগত সুপারিশ তৈরি করাই লক্ষ্য।
অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলো হলো শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়, লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যানডেমিক ইনস্টিটিউট, লিভারপুল জন মুরস বিশ্ববিদ্যালয়, মালয়েশিয়ার সারাওয়াক ইনফেকশাস ডিজিজ সেন্টার এবং থাইল্যান্ডের ন্যাশনাল সেন্টার ফর জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি।
অধ্যাপক ডড বলেন, আফ্রিকান সোয়াইন ফিভার বিশ্বজুড়ে শূকর পালনের সামনে অন্যতম গুরুতর হুমকি। প্রকল্পের সহ-প্রধান ও ইউকে-এসইএ ভ্যাক্স হাবের পরিচালক অধ্যাপক টাক সেং ওং (Tuck Seng Wong) বলেন, এই অনুদান প্রাণী ও মানুষের স্বাস্থ্যকে একসঙ্গে দেখার ওয়ান হেলথ কাজকে আরও শক্ত করবে।
এএসএফের ব্যাপকভাবে ব্যবহারযোগ্য টিকা নেই এবং আক্রান্ত শূকর সাধারণত মারা যায়, তাই খামারিদের কাছে প্রতিরোধ ও আগাম সতর্কতাই প্রধান ভরসা। প্রতিবেদনটি লিখেছেন পিগ ওয়ার্ল্ডের অ্যালিস্টেয়ার ড্রাইভার।
ছবি: Immanuel Giel (কাউন্টি ডারহামের একটি খামারের খোঁয়াড়ে শূকর) / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Pig World





মন্তব্য
(০)