কয়েক বছর প্রায় বন্ধ থাকার পর গবাদিপশুর কৃত্রিম প্রজননের জন্য বিদেশি ষাঁড়ের বীজ আবার কিনছে চীন। তবে এখন নেওয়া হচ্ছে কেবল রপ্তানিকারক দেশের সেরা ১০ শতাংশ ষাঁড়ের বীজ। রয়টার্সের বরাতে দ্য ক্যাটল সাইট জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রথম চালান পৌঁছায় এপ্রিলে, কানাডাও পাঠাচ্ছে, আর যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য শিগগির অনুমোদন পেতে পারে।
২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চীন একের পর এক দেশ থেকে জীবন্ত পশু ও বীজ আমদানি বন্ধ করে, ভ্রূণ আমদানিও সীমিত করে, প্রায়ই রাজনৈতিক বিরোধের সময়ে। শিল্পসংশ্লিষ্ট এক ডজন ব্যক্তি জানান, কিছু খামারি মঙ্গোলিয়া, কাজাখস্তান ও ভিয়েতনাম দিয়ে চোরাপথে বীজ বা গরু এনেছেন। বেইজিংয়ের কৃষি পরামর্শক ইয়ান লাহিফ বলেন, জেনেটিক্স খুব দ্রুত পুরোনো হয়ে যায়।
পার্থক্যটা বড়। ইউএসডিএর হিসাবে চীনে গরুর শবদেহের ওজন প্রায় ১৫০ কেজি, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪০০ কেজি; চীনের গাভির দুধও কম। বেইজিং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড সায়ার্সের হাও হংমান (Hao Hongman) বলেন, চীনের গরু ঐতিহাসিকভাবে হালচাষের জন্য তৈরি, আর পশ্চিমা জাত মাংস ও দুধের জন্য। ২০২৪ সালে চীনারা এক দশক আগের প্রায় দ্বিগুণ গরুর মাংস খেয়েছেন, আর মাংস ও দুগ্ধপণ্যের আমদানি বছরে ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ কোটি ডলার।
প্রতিটি চালান বিশেষজ্ঞ প্যানেলের চার মাসের বেশি সময়ের যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যায়, কিছু চালান আংশিক অনুমোদন পেয়েছে। আগস্টের শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা থেকে চীন পেয়েছে ৯২,৫৭৩টি স্ট্র, দাম প্রায় ৭ লাখ ডলার; নিষেধাজ্ঞার আগে বছরে আসত প্রায় ১ কোটি স্ট্র। গত বছর চীনের একটি নিরীক্ষা দল এবিএস গ্লোবালের অস্ট্রেলীয় ষাঁড় কেন্দ্র পরিদর্শন করে। এবিএস অস্ট্রেলিয়া আগামী এক বছরে ওয়াগিউ, অ্যাঙ্গাস, হলস্টেইন ও জার্সি জাতের প্রায় ২ লাখ স্ট্র চীনে পাঠানোর আশা করছে, যা তাদের অন্য সব বাজার মিলিয়ে পাঠানোর চেয়ে বেশি।
২০২১ সালে চীন প্রাণিসম্পদের জেনেটিক্সে স্বনির্ভরতাকে জাতীয় নিরাপত্তার অগ্রাধিকার ঘোষণা করে এবং স্থানীয় প্রজনন কেন্দ্রে বিনিয়োগ করে, তবে শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে নিজস্ব জাত এখনো পিছিয়ে। প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের যে ষাঁড়ের বীজ বিক্রি হয় তার প্রায় ৫৫ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের, অনুমোদন পেলে দেশটিই আবার চীনের প্রধান সরবরাহকারী হবে বলে ধারণা।
ছবি: Montanabw (একটি অ্যাঙ্গাস ষাঁড়) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: The Cattle Site





মন্তব্য
(০)