নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে টানা আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় খামারগুলোতে শত শত মুরগি মারা গেছে। খামারিরা জানান, উপজেলার প্রায় প্রতিটি খামারেই কমবেশি মুরগি মরেছে।
ঢাকা ট্রিবিউন জানায়, চট্টগ্রাম বিভাগে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ত্রুটির পর আন্ডার-ফ্রিকোয়েন্সি তৈরি হয়ে জাতীয় গ্রিডে সমস্যা দেখা দেয়, আর মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার পর রূপগঞ্জে বিদ্যুৎ চলে যায়। দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় খামারের ভেতরে বাতাসে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়, মুরগিগুলো শ্বাসকষ্ট আর হঠাৎ হিটস্ট্রোকে মারা যায়। বিকেল থেকে মুরগি মরতে শুরু করে; সন্ধ্যার কিছু আগে বিদ্যুৎ ফিরলেও ততক্ষণে শত শত মুরগি মারা গেছে।
কর্ণগোপ এলাকার খামারি সজীব মোল্লা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ৮ শতাংশ জমিতে খামার করেছেন, পরিবারের সবাই সেখানে কাজ করেন। তাঁর খামারে ২২ দিন বয়সী আড়াই হাজার ব্রয়লার ছিল, কিছুদিনের মধ্যেই বিক্রির কথা। তিনি বলেন, "সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। এর মধ্যে বিক্রির উপযোগী শতাধিক মুরগি মারা গেছে।"
খামারি রাজু হোসেনেরও শতাধিক মুরগি মরেছে, বিক্রির সময় প্রায় হয়ে এসেছিল; এই দফার লাভ তোলা কঠিন হবে বলে জানান তিনি। আরেক খামারি আবু সায়েম বিদ্যুৎ যাওয়ার পর থেকে পানি ছিটিয়ে, এমনকি হাতপাখায় বাতাস করেও সব মুরগি বাঁচাতে পারেননি। তাঁর কথায়, গত দুই-তিন বছরে দফায় দফায় ফিড, বাচ্চা, ওষুধ ও টিকার দাম কয়েক গুণ বেড়েছে; খামারিরা যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন, তখনই এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট অনেকের শেষ সম্বলে আঘাত করল।
নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর ডিজিএম আলাউদ্দিন বলেন, তাঁদের নিজস্ব নেটওয়ার্কে সমস্যা ছিল না; জাতীয় গ্রিডে সমস্যার কারণে অন্য অনেক এলাকার মতো রূপগঞ্জেও বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল, সন্ধ্যার আগে গ্রিড স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ ফেরে। তাঁর ভাষায়, এটি জাতীয় গ্রিডের সমস্যা, তাঁদের তেমন কিছু করার ছিল না।
ছবি: ব্রয়লার মুরগি, Icem4k / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন





মন্তব্য
(০)