ক্ষুদ্র মাছ ধরার নৌবহর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তামিলনাড়ু উপকূলে চার প্রজাতির ম্যান্টা ও ডেভিল রে (শাপলাপাতাজাতীয় বড় মাছ) কমে যাচ্ছে বলে থুথুকুডিতে ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মাছ নামানোর তথ্য বিশ্লেষণ করা এক গবেষণায় দেখা গেছে; খবরটি দিয়েছে মোঙ্গাবে ইন্ডিয়া। কনজারভেশন সায়েন্স অ্যান্ড প্র্যাকটিস সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় স্পাইনটেইল, সিকলফিন ও বেন্টফিন ডেভিল রে এবং ওশেনিক ম্যান্টা রের সংখ্যা কমার প্রমাণ মিলেছে।
মোবুলিড রে নামে পরিচিত এই মাছগুলো উপকূলের অগভীর পানিতে খাবার খোঁজে, তাই সহজেই জালে আটকা পড়ে। বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ২,৫৯,০০০টি মোবুলিড মৎস্য আহরণে মারা যায়, যার ৮৭ শতাংশই পাঁচ দেশে: ভারত, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার ও পেরু, বেশির ভাগ ক্ষুদ্র মৎস্য আহরণে। এর মধ্যে ভারতের অংশ ২৮.২ শতাংশ।
থ্রেসপুরম ও থারুভাইকুলাম ঘাটে গবেষকেরা ৮,১৬৩টি মোবুলিড নামানোর তথ্য রেকর্ড করেন; এর ৮৬ শতাংশ পর্যন্ত ছিল স্পাইনটেইল ডেভিল রে। থ্রেসপুরমে নৌকাপ্রতি স্পাইনটেইল ডেভিল রে ধরা কমেছে ৮৬ শতাংশ, সিকলফিন ৯২ শতাংশ ও ম্যান্টা রে ৮৩ শতাংশ; অথচ নৌকার সংখ্যা ও দক্ষতা বাড়ায় মোট রে নামানো বেড়েছে ৪ শতাংশ। গবেষণার লেখক, যুক্তরাজ্যের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের দিব্যা কারনাদ বলেন, বেশি নৌকা বা উন্নত প্রযুক্তিতে বেশি মাছ ধরা পড়ে, কিন্তু তার মানে সাগরে মাছ বেশি নয়।
ধরা পড়া রেগুলোর বয়সও কমছে। প্রাপ্তবয়স্ক স্পাইনটেইল ডেভিল রের অনুপাত ৬৪ থেকে নেমে ২৬ শতাংশ হয়েছে, আর গড় দেহের প্রস্থ কমেছে ১০ সেন্টিমিটার। এই রে দুই-তিন বছরে মাত্র একটি বাচ্চা দেয়, তাই প্রাপ্তবয়স্ক কমে গেলে সংখ্যা ফেরানো কঠিন হয় বলে জানান প্রধান লেখক, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মায়ুরী চোপড়া। মোট নামানো রের ৯৮.৯ শতাংশ এসেছে ভাসমান ফাঁস জাল (ড্রিফট গিল নেট) থেকে, আর বাইক্যাচের ৫০.২ শতাংশ টুনা আহরণে।
সুরক্ষাও অসম। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ম্যান্টা রে ভারতের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইনের প্রথম তফসিলে সর্বোচ্চ সুরক্ষায় আছে, কিন্তু বেশির ভাগ ডেভিল রে চতুর্থ তফসিলে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ১০টি মোবুলিড প্রজাতিই সাইটিসের (CITES) পরিশিষ্ট ১-এ যুক্ত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিষিদ্ধ করে, কিন্তু দেশের ভেতরের আহরণ নয়। ধরা পড়া রে ছেড়ে দেওয়ার জন্য জেলেরা কোনো ক্ষতিপূরণ পান না, তাই সেগুলো স্থানীয় বাজারে বিক্রি হয়।
গবেষকেরা জাল পানিতে রাখার সময় কমানো ও ফাঁসের আকার বদলানোর প্রস্তাব দিয়েছেন, তবে অন্য প্রজাতির ওপর প্রভাব যাচাই করতে বলেছেন। তাঁদের মতে, ম্যান্টা রের মতো ডেভিল রেকেও কঠোর সুরক্ষা দিতে হবে, আবাসস্থল রক্ষা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কারনাদের মতে, সংখ্যা ফিরতে বছর নয়, দশকের পর দশক লাগবে।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন অদিতি ট্যান্ডন (Aditi Tandon)।
ছবি: David Sim / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: মোঙ্গাবে ইন্ডিয়া





মন্তব্য
(০)