রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পেপসি গলির সড়ক বিভাজকের সামান্য জায়গায় গড়ে উঠেছে শাকসবজি আর ঔষধি গাছের বাগান। লালশাক, পুঁইশাক, কলমিশাক, কচুশাক থেকে শুরু করে মরিচ, লাউ, মিষ্টিকুমড়া, শসা, ঢ্যাঁড়স, শিম, করলা, বেগুন, ফুলকপি, আখ ও পেঁপে সবই আছে সেখানে; আছে তুলসী, অ্যালোভেরা, পাথরকুচি, কেশরাজ, হলুদ ও নিমও। জাগো নিউজের প্রতিবেদক ইসমাইল সিরাজীর প্রতিবেদনে এ খবর এসেছে।
বাগানটির পেছনে তিনজন: রিকশাচালক কামাল হোসেন, চা বিক্রেতা তোফায়েল হোসেন এবং গলির একটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা তত্ত্বাবধায়ক প্রশান্ত কুমার রায়। প্রশান্ত জানান, কয়েক মাস আগে বিভাজকটি তৈরির পর ফাঁকা জায়গা কাজে লাগানোর ভাবনা থেকে সড়কে কাজ করা কয়েকজন মিলে গাছ লাগানো শুরু করেন। উৎপাদিত সবজি নিজেরা খান, সহকর্মীদেরও দেন; এতে বাজার থেকে সবজি কেনার খরচ কমেছে। পথচারীরা ঔষধি গাছ চাইলে সাধ্যমতো দেন।
সারা দিন রিকশা চালিয়ে কামাল হোসেনের অবসর কাটে গাছের যত্নে। 'নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে আমাদের মতো মানুষের সংসার চালানো কঠিন। তাই এই অল্প জায়গায় কিছু শাকসবজি লাগিয়েছি। নিজেরাও খাচ্ছি, কেউ চাইলে তাকেও দিচ্ছি,' বলেন তিনি। শহরের অব্যবহৃত জায়গায় পরিকল্পিতভাবে সবজি চাষ হলে বাজারের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমবে বলে মনে করেন তিনি।
চা বিক্রেতা তোফায়েল হোসেন বিভাজকের ফাঁকা জায়গায় ময়লা জমতে দেখে প্রথমে সৌন্দর্যের জন্য গাছ লাগান, পরে কয়েকজনের পরামর্শে শুরু করেন সবজি চাষ। দোকান সামলানোর ফাঁকে তিনি বীজ বোনেন ও গাছের পরিচর্যা করেন; বাগানের সবজিতে তাঁর নিজের প্রয়োজনও মিটছে।
নিয়মিত ওই পথে চলাচলকারী গোলাম কিবরিয়া ও চালক সোলাইমান উদ্যোগটির প্রশংসা করেন। তাঁদের মতে, ঢাকার অনেক ফাঁকা জায়গা পড়ে থাকে; সেখানে এভাবে গাছ লাগালে প্রকৃতি ও মানুষ দুয়েরই উপকার হবে।
ছবি: Ton Rulkens / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)