পাবনার বেড়া উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষকেরা সরকারি কৃষি প্রণোদনা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। নিজেদের টাকায় বীজ ও সার কিনে তাঁরা মাষকলাই, পেঁয়াজ ও শাকসবজির আবাদ করছেন। উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, বরাদ্দ সীমিত এবং এলাকা দুর্গম হওয়ায় সব কৃষককে সুবিধা দেওয়া যাচ্ছে না। দৈনিক সময়ের আলোর প্রতিবেদনের বরাতে খবরটি দিয়েছে এগ্রিকেয়ার২৪।
সোমবার (১২ অক্টোবর) চর সাঁড়াশিয়া ও চর নাগদাহসহ কয়েকটি এলাকায় দেখা যায়, শত শত বিঘা জমিতে মাষকলাই, মুড়িকাটা পেঁয়াজ, পটল, শসা, লালশাক, পালংশাক ও মূলাশাকের আবাদ হয়েছে। কৃষকেরা নিজেদের খরচেই এসব ফসলের পরিচর্যা করছেন।
চর সাঁড়াশিয়ার কৃষক হুমায়ুন কবির বলেন, কৃষি অফিসের প্রণোদনার আশায় বসে থাকলে তাঁদের চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যেত। মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের কার্যক্রম থাকলেও বাস্তবে তাঁরা কোনো উপকার পাচ্ছেন না বলে তাঁর অভিযোগ। চর নাগদাহের ইউপি সদস্য জাহিদ মোল্লা এবং হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মিজানুর রহমানও বলেন, চর পেচাকোলা ও চর নাকালিয়ার কৃষকেরা সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন না।
হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হামিদ সরকার বলেন, চলতি বছর কৃষি অফিস কোনো কৃষককে প্রণোদনা দিয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। বিতরণে ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে কৃষি অফিস সমন্বয় করছে না বলেও তাঁর অভিযোগ।
বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুসরাত কবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করেই প্রণোদনা বিতরণ করা হয়; ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমে এর মধ্যে তিন হাজারের বেশি কৃষককে পেঁয়াজ ও সবজির বীজ এবং সার দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, দুর্গম এলাকার অনেক কৃষক সময়মতো প্রণোদনা নিতে আসেন না, আর চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম। সামনে চরের আরও বেশি কৃষককে প্রণোদনার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি অফিসের হিসাবে, চলতি মৌসুমে বেড়ায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ, ৮৯০ হেক্টরে শাকসবজি, ১২৫ হেক্টরে রবি মাষকলাই এবং ২ হাজার ২৩৫ হেক্টরে খরিপ-২ মাষকলাই চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
ছবি: Rohan Pinto / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪




মন্তব্য
(০)