রাজশাহীর তানোর উপজেলায় রোপা আমনের খেতে কৃষকদের ভাষায় "সাতরা পোকার" আক্রমণে ধানগাছের পাতা হলুদ ও লালচে হয়ে যাচ্ছে, অনেক জায়গায় গাছ বসে পড়েছে বা মরে গেছে। তানোর থেকে মুন্ডুমালা পর্যন্ত বিভিন্ন মাঠে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সময়। আক্রান্ত জায়গায় শিষ বের হবে না বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
কলমা ইউনিয়নের বিল্লি এলাকার কৃষক আবুল ৫ বিঘায় রোপা আমন লাগিয়েছেন; প্রায় পুরো জমিতে, বিশেষ করে এক বিঘায় সমস্যা বেশি। কারেন্ট পোকা ও পচন রোগের কীটনাশক দিয়েও সুফল পাননি; এক বিঘায় তাঁর খরচ হয়েছে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা। পাঁচন্দর ইউনিয়নের প্রাণপুর পাঠাকাটা গ্রামের জাইদুরের ২০ বিঘার এক বিঘায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে; আশপাশের আরও কয়েকজনের জমিতেও।
কৃষকদের ধারণা, এ বছরই প্রথম এমন সমস্যা দেখা দিয়েছে, তাই কীভাবে দমন করতে হবে বুঝতে পারছেন না। অনেকে বালাইনাশকের দোকানির পরামর্শে কীটনাশক দিয়েছেন, ফল পাননি। যশপুর গ্রামের সাহেব আলী জানান, শুরুতে তিনি ভেবেছিলেন কারেন্ট পোকা বা পচন রোগ; কিন্তু কীটনাশক দেওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই পাতা পুড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হচ্ছে। কৃষি অফিসের কাউকে মাঠে দেখেননি বলেও অভিযোগ করেন কৃষকেরা।
কৃষকেরা জানান, এবার রোপণের সময় থেকেই জমি প্রচণ্ড খরায় পড়ে। সাধারণত বৃষ্টির পানিতে আমন চাষ হয়, কিন্তু এবার সেচ দিয়ে চারা রোপণ করতে হয়েছে, পরেও কয়েকবার সেচ লেগেছে। খরায় আগাছা বেড়েছে; বিঘাপ্রতি আগাছা পরিষ্কারে ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কীটনাশক ও সারের দামও বেড়েছে। আড়াই থেকে তিন মাস বয়সী ধানে এ পর্যন্ত বিঘাপ্রতি খরচ ১৪ থেকে ১৬ হাজার টাকা, অন্য বছরের প্রায় দ্বিগুণ।
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন, দস্তার (জিংক) ঘাটতি বা কৃমির কারণে এমন সমস্যা হতে পারে, তবে জমিতে না গিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না। বিষয়টি তাঁদের অজানা নয় এবং কিছু কিছু জায়গায় দেখা দিয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রতিবেদন: রাজশাহী সংবাদদাতা, কৃষি সময়
ছবি: Nasir4501 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: কৃষি সময়




মন্তব্য
(০)