মাথায় মহাজনের ঋণ, জলদস্যুর আতঙ্ক, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি আর ভারতীয় জেলেদের অনুপ্রবেশের শঙ্কা নিয়ে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) থেকে সুন্দরবনে শুঁটকি উৎপাদনে যাচ্ছেন হাজারো জেলে ও মাছ ব্যবসায়ী। দুবলার চরসহ বিভিন্ন চরে অস্থায়ী ঘর ও মাচা বানিয়ে আগামী পাঁচ মাস চলবে শুঁটকির মৌসুম; সাগর থেকে ধরা মাছ মাচায় শুকিয়ে শুঁটকি হবে।
মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে খাবার, জ্বালানি, জালসহ সরঞ্জাম গুছিয়ে বৃহস্পতিবার থেকেই দুবলার চরের পথে রওনা হচ্ছেন জেলেরা। এবার শুঁটকিপল্লি থেকে সরকারের রাজস্ব লক্ষ্য ৮ কোটি টাকা। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও দুবলার চরের চারটি শুঁটকিপল্লির লক্ষ্য ছিল ৮ কোটি টাকা, কিন্তু বৈরী আবহাওয়া ও দস্যুদের তৎপরতায় তা পূরণ হয়নি; ৫ হাজার ৪৩১.৭ টন শুঁটকি থেকে আয় হয়েছিল ৭ কোটি ৩৭ লাখ ২২ হাজার ৪৯৩ টাকা।
পাইকগাছার বোয়ালিয়া গ্রামের বিশ্বাস শঙ্কর জানান, তিনিসহ ৪০ জন জেলে পাঁচটি নৌকার বহর নিয়ে যাচ্ছেন; কেউ কেউ ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত মহাজনি ঋণ নিয়েছেন। জেলে বরাম সরদার বলেন, ‘এবারের মৌসুমে সাগরে তেমন ইলিশ পাইনি। ভারতীয় জেলেদের কারণে গভীর সমুদ্রেও যেতে পারিনি।’ মাছ পেলে তার একটি অংশ দস্যুদের দিতে হয় বলেও জানান তিনি।
দুবলার চর ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, শুঁটকি মৌসুম ঘিরে নতুন দস্যু বাহিনী সংগঠিত হওয়ার খবর মিলছে; গত মৌসুমে ব্যবসায়ীদের লাখ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হয়েছে। এসআরবি-৬-এর অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ জানান, ইতিমধ্যে ছয়টি বনদস্যু বাহিনীর ৭৪ জন আত্মসমর্পণ করেছে, দুবলার চরে এসআরবির অস্থায়ী ক্যাম্প আছে।
খুলনার বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, জেলেদের গভীর সমুদ্রে একা না যেতে এবং রাতে ১৫-২০টি নৌকা একসঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন পয়েন্টে বনরক্ষী থাকবেন। জেলেঘর, ডিপো ঘর ও শুঁটকির মাচা বানাতে সুন্দরবনের কোনো বনজ সম্পদ ব্যবহার করা যাবে না, সব উপকরণ নিজ এলাকা থেকে নিতে হবে। ৩০ অক্টোবর থেকে ঘর তৈরির কাজ শুরুর কথা।
মৎস্য দপ্তরের তথ্যে, বঙ্গোপসাগরে দেশের মোট জলসীমা ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার, মাছ ধরা হয় ২০০ মিটার গভীরতার মধ্যে; প্রায় ২৩৭টি শিল্প ট্রলার ও ২৮ হাজার ৫৭৫টি যান্ত্রিক ও প্রচলিত নৌযান মাছ ধরে। খুলনায় নিবন্ধিত জেলে ৪১ হাজার ৬৪৫ জন, তাঁদের প্রায় সাড়ে ৩১ হাজার গভীর সমুদ্রে যান। প্রতিবেদনটি করেছেন খুলনা থেকে কাজী শামিম আহমেদ ও শরণখোলা থেকে ফরিদ খান মিন্টু।
ছবি: চট্টগ্রামে শুঁটকি মাছ, Kritzolina / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: আজকের পত্রিকা





মন্তব্য
(০)