সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩০°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৮০%বাতাস কিমি/ঘ

ঝরে পড়া ধানে লাখপতি হওয়ার স্বপ্ন সুলতানের

কোনো প্রকার জমি চাষাবাদ বা রোপণ প্রক্রিয়া ছাড়াই খুলনার রূপসায় কাটা ধানের শীষ থেকে ঝরে পড়া বীজ থেকে ধান উৎপাদন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কৃষক সুলতানুর রহমান। তার এই সাফল্য দেখে তার অনুকরণে চাষাবাদ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন এলাকার অন্যান্য কৃষকরা। সুলতানের কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা

ফসল

কোনো প্রকার জমি চাষাবাদ বা রোপণ প্রক্রিয়া ছাড়াই খুলনার রূপসায় কাটা ধানের শীষ থেকে ঝরে পড়া বীজ থেকে ধান উৎপাদন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কৃষক সুলতানুর রহমান। তার এই সাফল্য দেখে তার অনুকরণে চাষাবাদ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন এলাকার অন্যান্য কৃষকরা। সুলতানের কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার জাবুসা বিলজুড়ে কোথাও পাকা ধান নেই। পাকা ধানের সময়ও এখন নয়। চোখ যেদিকে যায় সেদিকেই রোপা সবুজ ধানের চারার সমারহ। সেই বিলের এক প্রান্তে সুলতানুর রহমানের জমিতে সোনালী ধানের ঝনঝনানি ও অপরূপ দৃশ্য নজর কাড়ছে অন্যান্য কৃষকসহ সাধারণ মানুষের। খবর শুনে দূর-দূরান্তের কৃষকরা আসছেন তার ধান উৎপাদনের গোপন রহস্য জানতে।

গত বছর উপজেলার জাবুসা গ্রামের সুলতানুর রহমান ১০ একর জমিতে বোরো মৌসুমে উচ্চফলনশীল জাতের ধান চাষ করেন। পাকা ধান কাটার কয়েকদিন পর ঝরে পড়া ধান থেকে চারা গজায় জমিতে। একসময় ওই চারা থেকেও ধান ফলে। কোনো প্রকার চাষাবাদ বা জমির পরিচর্যা ছাড়াই সেবছর ৯০ মণ ধান পান সুলতানুর রহমান। আশায় বুক বাঁধেন তিনি। এ বছরও তার ওই ১০ একর জমিতে ঝরে পড়া ধানে বাম্পার ফলন হয়েছে।

কৃষক সুলতানুর রহমান বলেন, গত বছর বোরো মৌসুমে ধান কাটার পর ঝরে যাওয়া ধান থেকে চারা গজায়। চাষাবাদ বা পরিচর্যা ছাড়ায় ওই জমি থেকে প্রায় ৯০ মণ ধান পাই। বিষয়টি উপজেলা কৃষি অফিসারের সঙ্গে আলোচনা করলে তিনি আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, এ বছর কৃষি অফিসার ফরিদুজ্জামানের পরামর্শ ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিমাদ্রী বিশ্বাসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জমিতে ঝরে পড়া ধানের সঙ্গে আরও দুই মণ বীজ ধান জমিতে ছড়িয়ে দিই। এরপর সুন্দরভাবে ধানের চারা গজিয়ে ওঠে। পরে কিছু আগাছা পরিষ্কার করিয়ে সামান্য সার ছিটিয়ে দিই। সব মিলিয়ে ১০ একর জমিতে খরচ হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। বোরো মৌসুমে যে পরিমাণ ধান হয়েছিল, এই সময়ও কোনো প্রকার চাষাবাদ বা বাড়তি খরচ ছাড়াই প্রায় সমপরিমাণ ফলন আশা করা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আশা করছি এ বছর কমপক্ষে সাড়ে তিনশো মণ ধান পাবো। যার বাজার দর সাড়ে তিন লাখ টাকা। এছাড়া আরও প্রায় এক লাখ টাকার খড়-কুটো বিক্রি হবে।

সুলতানুর রহমান বলেন, উফশী জাতের ব্রি ধান-৯৯ জাতের ধান বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত। আমি উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে নতুন জাতের বীজ পেয়েছি। এর মধ্যে আরও দু'টি জাত রয়েছে। এগুলো হলো- ব্রি ধান-৯২ ও ব্রি ধান-৬৭। তবে কেউ যদি আমার এই পদ্ধতি অনুসরণ করে তাহলে তাকে উফশী ব্রি-৯৯ জাতের ধান চাষ করতে হবে। এতে ভালো ফলন পাবে।

উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিমাদ্রী বিশ্বাস বলেন, গত মৌসুমে ঝরে পড়া ধান থেকে চারা গজানোর খবর পেয়ে আমরা জমিতে এসে দেখি এতে ফসল আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন আমরা পরবর্তী বছর ঝরা ধান থেকে আরও ভালো ফলন কীভাবে আনা যায় সে ব্যাপারে পরিকল্পনা করি। তারই আলোকে এ বছর কৃষককে ঝরে পড়া ধানের সঙ্গে আরও কিছু বীজ ধান ও সার ছোনানোসহ আগাছা পরিষ্কার করার পরামর্শ দিই। এই পদ্ধতি অনুসরণ করে যে ধান হয়েছে তা বোরো মৌসুমের চেয়ে কম না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ফরিদুজ্জামান বলেন, কোনো প্রকার চাষাবাদ বা বাড়তি খরচ ছাড়া সহজ পদ্ধতিতে চাষি সুলতানুর রহমানের জমিতে ধান উৎপাদন হয়েছে। তার জমিতে চাষ করা উচ্চ ফলনশীল ব্রি ধান-৯৯ জাতটি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা দুই বছর আগে আবিস্কার করেন। এই জাতটি লবণাক্ততা সহিষ্ণু এবং উঁচু বা নিচু যেকোনো জমিতে চাষাবাদ করা সম্ভব। হাইব্রিডের মতো অধিক ফলনও হয়।

তিনি বলেন, সুলতানুর রহমানের ঝরা ধান চাষের এই খবর পেয়ে বিভিন্ন এলাকার কৃষক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরামর্শ নিচ্ছেন। তবে সুলতানুর রহমানের এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে আউশ মৌসুমে একদিকে অল্প খরচে কৃষকরা ভালো ফলন পেয়ে লাভবান হবেন অন্যদিকে দেশের খাদ্য চাহিদা মিটবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কোহিনুর জাহান বলেন, কৃষিখাতের উন্নয়নে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় বিভিন্ন প্রকল্প ও সংস্থার মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। সে আলোকে রূপসা উপজেলায় কৃষিখাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। জাবুসার সুলতানুর রহমান ঝরে পড়া ধান থেকে যে ফসল উৎপাদন করেছেন তাতে কৃষি উন্নয়নে নতুন মাত্রা যুক্ত হলো। অন্যান্য কৃষকরা জমি ফেলে না রেখে এই পদ্ধতি অবলম্বন করলে দেশের খাদ্য ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি চাষিরা লাভবান হবেন।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

ফসল

সম্পর্কিত খবর

ফসল

আবাদি জমির মাত্র ১২ শতাংশে বিশ্বের অর্ধেক ক্ষুদ্র কৃষকই ২০৫০-এ বাড়তি ১৫০ কোটি মানুষের খাদ্য জোগাতে পারেন: নতুন বই

‘হোল আর্থ ফার্মিং’ বইয়ে হাইতির স্মলহোল্ডার ফার্মার্স অ্যালায়েন্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা হিউ লক (Hugh Locke) যুক্তি দিয়েছেন, গ্লোবাল সাউথের ৪৭ কোটি ৫০ লাখ ক্ষুদ্র খামারের প্রায় ২৪ কোটিকে পুনরুৎপাদনশীল কৃষি ও কৃষিবনায়নে নিলে ২০৫০ সালের বাড়তি খাদ্যচাহিদার পুরোটা মেটানো যাবে, মাটি ফিরবে, আর বছরে ০.৭২ গিগ

ডাউন টু আর্থ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

রেকর্ড শক্তিশালী এল নিনো আসছে, তবু অস্ট্রেলিয়ায় খরা অনিবার্য নয়: আবহাওয়া ব্যুরো

মডেল বলছে চলতি এল নিনো ১৯৮২–৮৩-কে ছাড়িয়ে যেতে পারে, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের ৩ ডিগ্রির বেশি ওপরে উঠতে পারে; কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার ব্যুরো অব মিটিওরোলজির ব্যাখ্যা, আপাতত নিরপেক্ষ ভারত মহাসাগর দ্বিমেরু, উষ্ণ সাগর ও দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণায়নও বসন্ত-গ্রীষ্ম গড়ে দেবে; জলাধা

Beef Central২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফসল

বীজ কত বড় হবে, ভ্রূণ থেকে যায় সেই সংকেত—পেপটাইড বাড়িয়ে ফসলে মিলল বড় বীজ

যুক্তরাজ্যের দ্য সেইন্সবারি ল্যাবরেটরি (The Sainsbury Laboratory) ও ফ্রান্সের একোল নরমাল সুপেরিয়র দ্য লিয়োঁর গবেষকেরা দেখিয়েছেন, ভ্রূণে তৈরি PIPL7 পেপটাইডই এন্ডোস্পার্মের বীজ-আকার নিয়ন্ত্রক রিসেপ্টর IKU2-এর দীর্ঘদিনের অজানা সংকেত; একটি ফসলে এই পেপটাইডের প্রকাশ বাড়িয়ে বড় বীজ পাওয়া গেছে, পেটেন

Seed World Europe২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()