২০২৫ সালের ১৭ জুলাই জাগো নিউজ ২৪ একটি সচিত্র প্রতিবেদনে আলু ব্যবহার করে সহজে গোলাপের চারা তৈরির একটি কৌশল তুলে ধরে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গোলাপের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে অনেকেই গোলাপ চাষ করতে চান, আর তাঁদের জন্যই আলুর ভেতরে গোলাপের ডাল গেঁথে লাগানোর এই পদ্ধতি। ডাল ঢেকে দেওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর ভালো ফল দেখা যাওয়ার কথা বলা হয় সেখানে। কৌশলটি ইন্টারনেটে বহুল প্রচারিত হলেও গবেষণা ও উদ্যান বিশেষজ্ঞদের মত এর পক্ষে নয়।
আলু কৌশলটি কী
কানাডাভিত্তিক উদ্যানবিষয়ক ব্লগ লেইডব্যাক গার্ডেনারে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত লেখায় পদ্ধতিটির বিবরণ আছে: একটি আলুতে ছিদ্র করে তাতে গোলাপের ডাল ঢোকানো হয়, তারপর আলুটি প্রায় চার ইঞ্চি গভীরে মাটিতে পুঁতে ভালো করে পানি দেওয়া হয় এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে ডালটি একটি বোতল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। অনেক জায়গায় দাবি করা হয়, পচতে থাকা আলু নতুন শিকড়কে চিনি জোগায়। লেখাটিতে বলা হয়েছে, এটি অসম্ভব, কারণ চিনির অণু এত বড় যে শিকড় তা শোষণ করতে পারে না।
গবেষণায় যা পাওয়া গেছে
আফগানিস্তানের খোস্তে শায়খ জায়েদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের এমাল ওয়ালি, শফিকুল শফিকি ও আহমদ ইয়ার আহমদি বিষয়টি পরীক্ষা করেন। ২০১৯ সালে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ইনোভেটিভ রিসার্চ অ্যান্ড সায়েন্টিফিক স্টাডিজে (খণ্ড ২, সংখ্যা ৪) প্রকাশিত গবেষণায় ১৫, ২০ ও ২৫ সেন্টিমিটার লম্বা এবং ১, ২ ও ৩টি কুঁড়িযুক্ত আধা শক্ত গোলাপের ডাল আলুসহ ও আলু ছাড়া লাগানো হয়। আলুতে লাগানো ডালগুলো শুরুতে কুঁড়ি মেললেও সেগুলোতে শিকড় গজায়নি; অন্যদিকে সরাসরি মাটিতে লাগানো বেশির ভাগ ডালে পাতা ও শিকড় দুই-ই হয়েছে। দুটি কুঁড়িযুক্ত ১৫ সেন্টিমিটারের ডালে ফল সবচেয়ে ভালো ছিল।
অস্ট্রেলিয়ার এবিসির অনুষ্ঠান গার্ডেনিং অস্ট্রেলিয়ার অতিথি উপস্থাপক, উদ্যানতত্ত্ববিদ ট্যামি হুইন ২০২২ সালের জুলাইয়ে এবিসিকে বলেন, আলু খুব সম্ভবত ডালটিকে পচিয়ে দেবে, তাই এটা করা একেবারেই উচিত নয়। তাঁর মতে, এতে ডালটি নষ্ট হয়, উল্টো আলু থেকেই অঙ্কুর বের হতে পারে।





মন্তব্য
(০)